মার্চেন্ট জানান, তিনি এক সময় ব্যাঙ্কার ছিলেন। পরে কলা রফতানির ব্যবসা শুরু করলেও তা ভেঙে পড়ে। সেই সময়ই ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এক ইরানি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আমেরিকায় যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেখানে গিয়ে কাউকে হত্যা করতে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

ডোনাল্ড ট্রাম্প, আসিফ মার্চেন্ট এবং জো বাইডেন
শেষ আপডেট: 5 March 2026 12:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার ষড়যন্ত্র (Plot Against American Leaders) ঘিরে নতুন চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এক পাকিস্তানি নাগরিক আদালতে দাবি করেছেন, ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশেই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump), প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden) এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি (Nikki Haley)–কে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িয়ে পড়েছিলেন।
৪৭ বছর বয়সি পাকিস্তানি নাগরিক (Pakistani Citizen) আসিফ মার্চেন্ট (Asif Merchant) নিউইয়র্কের একটি আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এই বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেই তিনি ওই পরিকল্পনায় জড়াতে বাধ্য হন। বিচার চলাকালীন জুরি বোর্ডকে তিনি বলেন, “আমার সামনে আর কোনও পথ ছিল না। আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।”
এই মামলায় অভিযোগ, তিনি দু’জন ভাড়াটে খুনিকে নিয়োগের চেষ্টা করেছিলেন। যদিও পরে জানা যায়, যাঁদের তিনি খুনি ভেবেছিলেন তাঁরা আসলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (Federal Bureau of Investigation)–এর গোপন এজেন্ট। অভিযোগ, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য তাঁদের মাত্র পাঁচ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তিনি।
আদালতে দেওয়া বয়ানে মার্চেন্ট জানান, তিনি এক সময় ব্যাঙ্কার ছিলেন। পরে কলা রফতানির ব্যবসা শুরু করলেও তা ভেঙে পড়ে। সেই সময়ই ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এক ইরানি (Iranian Citizen) তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আমেরিকায় যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেখানে গিয়ে কাউকে হত্যা করতে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। মার্চেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, পরে তাঁকে সম্ভাব্য তিনটি লক্ষ্য দেওয়া হয় - ট্রাম্প, বাইডেন এবং হ্যালি।
এই ঘটনার সময় ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প ও বাইডেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। অন্যদিকে হ্যালি ঠিক এক মাস আগেই প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছিলেন।
মার্চেন্ট আরও দাবি করেন, ২০২২ সালের শেষের দিকে বা ২০২৩ সালের শুরুতে তিনি প্রথম ইরানি সংযোগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শুরুতে তাঁর কাজ ছিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে অর্থ পাচারে সহায়তা করা।
আদালতে তিনি জানান, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগকারী ব্যক্তি ছিলেন মেহদাদ ইউসেফ (Mehrdad Yousef), যিনি ইরানের সামরিক সংগঠন ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps)–এর সদস্য বলে তিনি দাবি করেছেন। ওই ব্যক্তিই তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য চাপ দেন এবং প্রয়োজনীয় কিছু নথি সংগ্রহের নির্দেশ দেন।
মার্চেন্টের দাবি, তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখিয়েই তাঁকে এই কাজে বাধ্য করা হয়েছিল। এমনকি একবার তাঁর বাড়ির সামনে অস্ত্র দেখিয়েও ভয় দেখানো হয়েছিল বলে তিনি আদালতে জানান।
মামলার শুনানিতে তদন্তকারীরা একটি ভিডিও ফুটেজও দেখান। সেখানে নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার একটি মোটেলে বৈঠকের সময় মার্চেন্টকে একজন রিপাবলিকান নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। তদন্তকারীদের মতে, ওই লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ট্রাম্প।
তবে মার্চেন্ট আদালতে বলেন, পরিকল্পনাটি সফল হবে বলে তিনি কখনওই মনে করেননি। বরং আগেই ধরা পড়বেন বলেই তাঁর ধারণা ছিল। এমনকি তিনি বলেন, পাঁচ হাজার ডলারে কেউ হত্যাকাণ্ড ঘটাবে না, সেটাও তিনি জানতেন।
তিনি আরও দাবি করেন, শেষ পর্যন্ত মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সব জানিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। তাঁর আশা ছিল, এতে হয়তো তিনি আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
২০২৪ সালের আগস্টে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই সন্ত্রাসবাদ এবং ভাড়াটে খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন মার্চেন্ট। তবে দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।