বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাল্টা অভিযানের দশম পর্যায়ে লক্ষ্যবস্তুগুলি ‘গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে। যদিও ইরানি রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলা হলেও, স্বাধীন সূত্রে তার কোনও নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি।

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
শেষ আপডেট: 2 March 2026 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েলের সরকারি ও সামরিক ভবনে বড়সড় হামলা করা হয়েছে (Iran Israel Conflict) বলে দাবি করেছে ইরান। সোমবার এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps বা IRGC) জানিয়েছে, তেল আভিভে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) দফতর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আঘাত হানা হয়েছে।
আইআরজিসির বক্তব্য, “ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর (Israel PM) কার্যালয় এবং বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দফতরকে নিশানা করা হয়েছে।” একই সঙ্গে হাইফা এবং পূর্ব জেরুজালেমের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভবনগুলিতেও হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলায় (US Israel - Iran War) শনিবার নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)। তাঁর অধীনেই কাজ করত আইআরজিসি (IRGC)। সেই ঘটনার পর থেকেই পাল্টা অভিযানে নেমেছে তেহরান। ইরানের দাবি, এটি তাদের ‘বৈধ আত্মরক্ষা’র অংশ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাল্টা অভিযানের দশম পর্যায়ে লক্ষ্যবস্তুগুলি ‘গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে। যদিও ইরানি রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলা হলেও, স্বাধীন সূত্রে তার কোনও নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি।
তেহরানের দাবি, শনিবারের হামলার পর থেকে তারা ইতিমধ্যেই দশ দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ চালিয়েছে। এই অভিযানে ইজরায়েলের ভূখণ্ডের পাশাপাশি অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকেও লক্ষ্য করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।
আরব দুনিয়ায় দ্রুত বদলে যাচ্ছে পরিস্থিতি। একের পর এক আক্রমণ ও পাল্টা আঘাতে সংঘাতের পরিধি বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহল উদ্বিগ্ন - এই সামরিক লড়াই সীমিত থাকবে, নাকি আরও বৃহত্তর আকার নেবে? এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে কূটনৈতিক অন্দরে।
এদিকে ইতিমধ্যেই খবর পাওয়া গেছে, ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজে মানববিহীন ড্রোনের আঘাতে (Drone Attack In Oman Boat) আগুন ধরে মৃত্যু হয়েছে এক ভারতীয় নাবিকের। শনিবারের এই ঘটনার কথা সোমবার নিশ্চিত করেছে ওমানের প্রশাসন। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি মানববিহীন জলযান সরাসরি ট্যাঙ্কারের ইঞ্জিন কক্ষে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের পর সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এক ভারতীয় কর্মী। জাহাজে মোট ২১ জন নাবিক ছিলেন - এর মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়, চার জন বাংলাদেশি এবং এক জন ইউক্রেনীয়।
এই হামলার নেপথ্যে কারা, তা এখনও প্রকাশ্যে আনেনি প্রশাসন। তবে হরমুজ প্রণালী ঘিরে ক্রমবর্ধমান সামরিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে সন্দেহের তির ইরানের দিকে। ইজরায়েল ও আমেরিকার সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর থেকেই উপসাগরীয় জলসীমায় উত্তেজনা বেড়েছে।