ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলেই তারা এই আলোচনায় অংশ নেবে। তেহরানের প্রধান দাবি, অবিলম্বে ইরানের উপর সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনও হামলা হবে না, তার বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা দিতে হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতায় আসতে শর্তসাপেক্ষে সম্মতি জানিয়েছে ইরান
শেষ আপডেট: 29 March 2026 17:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলমান সংঘাতের আবহে কূটনৈতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতায় আসতে শর্তসাপেক্ষে সম্মতি জানিয়েছে ইরান (Iran US mediation talks)। পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতি শান্ত করার সম্ভাব্য পথ খুলে দিতে পারে। এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ইসলামাবাদে আলোচনার জন্য নির্ধারিত হয়েছে এবং সেটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে (Pakistan mediation Iran US ceasefire)। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে অন্তত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা সংঘাতের বিরতি সম্ভব হতে পারে।
যদি ইসলামাবাদের বৈঠকে ইরানের মূল উদ্বেগগুলি নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য আশ্বাস পাওয়া যায়, তাহলে খুব শীঘ্রই বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হতে পারে। এই সম্ভাব্য অগ্রগতির সময়সীমা হিসেবে ৩১ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলেই তারা এই আলোচনায় অংশ নেবে। তেহরানের প্রধান দাবি, অবিলম্বে ইরানের উপর সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনও হামলা হবে না, তার বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে ২৯ ও ৩০ মার্চ ইসলামাবাদে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করেছে পাকিস্তান, যেখানে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
আলোচনার আগে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাই ইরানের
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ইরান মোট পাঁচটি প্রধান শর্ত সামনে রেখেছে, যার ভিত্তিতে তারা মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় যোগ দেবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ইরানের বিরুদ্ধে চলা সমস্ত হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল ভবিষ্যতে আর কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেবে না, তারও স্পষ্ট নিশ্চয়তা চাইছে তেহরান।
শুধু তাই নয়, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের কাছ থেকেও ইরান কার্যকর ভূমিকার নিশ্চয়তা চেয়েছে, যাতে তারা সক্রিয়ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই শর্তগুলি মানতে বাধ্য করতে পারে।
ইসলামাবাদের বৈঠকে এই চার দেশ ইরানের শর্তগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে এবং একটি সুসংগঠিত মধ্যস্থতার রূপরেখা তৈরি করতে পারে। যদি এই দেশগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আশ্বাস আদায় করতে পারে, তাহলে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে - তারপরই ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই মধ্যস্থতায় যোগ দিতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপ করেন। সেখানে তিনি উত্তেজনা কমানো এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।
এরপর পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দারও ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলেন। রবিবার ও সোমবার ইসলামাবাদে যে চার দেশের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক হবে, তার এজেন্ডা নিয়েই এই আলোচনা হয়। শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, এই কথোপকথনে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ এবং উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
উত্তেজনা কমানোর রূপরেখা খুঁজছে চার দেশ
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের বিদেশমন্ত্রীরা এই বৈঠকে উত্তেজনা কমানোর কার্যকর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, এই আলোচনায় সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে এবং কীভাবে আরও উত্তেজনা বাড়া আটকানো যায়, তার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ খোঁজা হবে।
এই চারটি দেশকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে কারণ তারা প্রত্যেকেই জ্বালানি রুট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের সঙ্গে।
কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে, ইরান ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদের মাধ্যমে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে তেহরান এখনও সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কথা অস্বীকার করছে।
৩১ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল - সম্ভাব্য বড় অগ্রগতির সময়
শীর্ষ সূত্রের মতে, যদি ইসলামাবাদের বৈঠকে বিশ্বাসযোগ্য আশ্বাস পাওয়া যায়, তাহলে খুব শীঘ্রই বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হতে পারে। এই সম্ভাব্য অগ্রগতির সময়সীমা হিসেবে ৩১ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময় গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকের ফলাফলই নির্ধারণ করবে, এই সংঘাত কি অস্থায়ীভাবে থামানো সম্ভব, নাকি তা আরও বড় আকার নেবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে একদিকে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হচ্ছে, সেখানে পশ্চিম এশিয়ার ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে এই আলোচনার সাফল্যের উপর।