Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

যুদ্ধবিরতিতে সাফ 'না' ইরানের, গত বছরের পরিস্থিতি থেকেই 'শিক্ষা', চাপ বাড়ানোর কৌশলেই অনড় আমেরিকা

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, আরব দুনিয়ার এই সংঘাতে আপাতত শান্তির কোনও রাস্তা দেখা যাচ্ছে না। একদিকে ইরানের অনমনীয় অবস্থান, অন্যদিকে মার্কিন কড়া সুর - এই দ্বিমুখী চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

যুদ্ধবিরতিতে সাফ 'না' ইরানের, গত বছরের পরিস্থিতি থেকেই 'শিক্ষা', চাপ বাড়ানোর কৌশলেই অনড় আমেরিকা

সরাসরি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খারিজ করে দিল ইরান

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 21 March 2026 14:12

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধ থামানোর কোনও প্রশ্নই নেই, বরং সরাসরি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খারিজ করে দিল ইরান (Iran ceasefire refusal)। দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুরনো দিন তারা ফিরিয়ে আনতে চায় না, তাই তেহরান কোনওভাবেই যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না। ইরানের এই সিদ্ধান্তে আরব দুনিয়ায় চলমান সংঘাত (Middle East Tension) এবং হরমুজ অচলাবস্থা (Hormuz Tension) যে ক্রমশ আরও জটিল আকার নিতে চলেছে, তা একপ্রকার স্পষ্ট।

একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধবিরতি মেনে নেব না, কারণ আমরা চাই না গত বছরের পরিস্থিতি আবার ফিরে আসুক।” জাপানের সংবাদমাধ্যম Kyodo News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি। এই বক্তব্য এমন এক সময় সামনে এল, যখন অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা চরমে এবং সংঘাত থামানোর কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।

ট্রাম্পের কড়া অবস্থান

ইরানের এই অবস্থানের পরেই আরও কড়া সুরে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে দেন, তিনিও যুদ্ধবিরতির পক্ষপাতী নন।

সংবাদমাধ্যমের সামনে ট্রাম্প বলেন, “আপনি যখন প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি ধ্বংস করছেন, তখন যুদ্ধবিরতির কথা আর চলে না।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, সংঘাত থামানোর বদলে চাপ বাড়ানোর কৌশলেই এগোতে চাইছে ওয়াশিংটন।

একইসঙ্গে ন্যাটো জোটের ভূমিকাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (NATO)-এর সদস্য দেশগুলিকে তিনি “ভীরু” বলে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, আমেরিকা ছাড়া এই জোট কার্যত “কাগুজে বাঘ”।

তবে, ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবারই বলেছেন যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান 'গুটিয়ে আনার' কথা বিবেচনা করছেন এবং এও যোগ করেছেন যে এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলি দ্রুত পূরণ‌ করা হবে।

তিনি অবশ্য ইরানের যুদ্ধ সক্ষমতাকে ভয় পাচ্ছেন বলে মানতে চাননি। ট্রাম্পের ব্যাখ্যা ইরানের উপর হামলাকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকর যে জায়গায় পৌঁছেছে তাতে আপাতত তিনি আক্রমণ বন্ধ রাখার পক্ষপাতি।

২২ দিনে পা যুদ্ধ, হরমুজে টানটান পরিস্থিতি

বর্তমানে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ২২ দিনে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আবার আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

এই প্রসঙ্গে আরাঘচি সাফ জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালী “শুধুমাত্র শত্রুপক্ষের জাহাজের জন্য বন্ধ”। গত ২ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার জবাবেই ইরান এই প্রণালী বন্ধ করে দেয়।

হরমুজ খোলার ডাক, মিত্রদের চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প

অন্যদিকে ট্রাম্প মিত্র দেশগুলির কাছে হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে রাখতে “অনেক সাহায্য” প্রয়োজন।

তিনি বিশেষভাবে চিন ও জাপানের মতো দেশগুলির নাম উল্লেখ করে বলেন, এই প্রচেষ্টায় তাদের যুক্ত হওয়া উচিত। ট্রাম্পের কথায়, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া “খুবই সাধারণ সামরিক পদক্ষেপ”, যার জন্য প্রয়োজন যথেষ্ট সংখ্যক জাহাজ ও সমন্বিত উদ্যোগ।

তবে এখানেও ন্যাটোর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ (NATO criticism Trump) তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত এই জোট “সাহস” দেখাতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্বের ইঙ্গিত?

একইসঙ্গে ট্রাম্প এমন ইঙ্গিতও দেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীকে ইউরোপ বা এশিয়ার দেশগুলির মতোভাবে ব্যবহার করে না। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সুরক্ষার দায়িত্ব বেশি করে নেওয়া উচিত সেই সব দেশের, যারা এর উপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।

অনিশ্চয়তার মাঝে বাড়ছে উত্তেজনা

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, আরব দুনিয়ার এই সংঘাতে আপাতত শান্তির কোনও রাস্তা দেখা যাচ্ছে না। একদিকে ইরানের অনমনীয় অবস্থান, অন্যদিকে মার্কিন কড়া সুর - এই দ্বিমুখী চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হোয়াইট হাউজ এখন জ্বালানি সংকটের কথা ভেবে ইরানের বিরুদ্ধে সুর নরম করার কথা ভাবলেও কূটনৈতিক মহলের বড় অংশ মনে করছে তেহরানের সামরিক সক্ষমতাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যতটা দুর্বল বলে অনুমান করেছিল বাস্তবে তাদের অভিজ্ঞতা হয়েছে উল্টো। আর সব অঙ্ক ওলট-পালট হয়ে গিয়েছে ইরানের সীমান্ত থেকে চার হাজার কিলোমিটার দূরের দিয়াগো গার্সিয়া দ্বীপে মার্কিন ও ব্রিটেন সামরিক ঘাঁটিতে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর।

এছাড়া দিন দিন দেশেও প্রশ্নের মুখে পড়ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US Preisdent)। এ পর্যন্ত তিনজন মার্কিন আধিকারিক ইরানের ওপর হামলার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন। তাদের বক্তব্য, ইরানের সামরিক ভান্ডারে এমন কিছু নেই যা আমেরিকার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি গতবছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরুর পর গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গাবার্ড তার রিপোর্টে জানিয়ে দিয়েছিলেন তেহরানে কোন বিপদজনক পরমাণু অস্ত্র কারখানা নেই যা বিশ্বের জন্য ভয়ঙ্কর হতে পারে।

তার মধ্যেই যুদ্ধবিরতিতে ইরানের রাজি না হওয়া এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পের পাল্টা মন্তব্যে জটিলতা বাড়ছে বই কমার লক্ষণ নেই। ফলে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে টানাপড়েন এবং আন্তর্জাতিক শক্তির সক্রিয় অবস্থান, সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলি যে আরও অস্থির হতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।


```