তুরস্কের ইনসিরলিক ন্যাটো এয়ারবেসে হামলার অভিযোগ উঠল ইরানের বিরুদ্ধে। এই ঘাঁটিতে মার্কিন পারমাণু বোমা মজুত ছিল বলে জানা গিয়েছে।

ন্যাটো এয়ারবেসে হামলা ইরানের
শেষ আপডেট: 13 March 2026 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ (War in Middle East) ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে। সেই উত্তেজনার আঁচ এবার পৌঁছল তুরস্কেও (Turkey)। শুক্রবার ভোরে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ইনসিরলিক এয়ারবেসে (Incirlik Air Base) আচমকাই বেজে ওঠে সাইরেন (Sirens)। মার্কিন সেনা (US Troops) মোতায়েন থাকা এই ঘাঁটি আদানার (Adana) কাছে অবস্থিত। ঘটনাকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়াল গোটা এলাকায়।
তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু (Anadolu Agency) জানিয়েছে, ভোররাতেই এই ঘটনা ঘটে। যদিও ঠিক কী কারণে সাইরেন বাজানো হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ব্যাখ্যা (Official Comment) সামনে আসেনি।
ভোররাতে সাইরেন, আতঙ্কে বাসিন্দারা
এক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ২৫ মিনিট নাগাদ সাইরেন শোনা যায়। প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে সেই সাইরেন বাজতে থাকে। ইনসিরলিক ঘাঁটিতে তখন জারি করা হয় লাল সতর্কতা (Red Alert)।
আদানার বাসিন্দারা আচমকাই ঘুম থেকে উঠে পড়েন। শহরটি এয়ারবেস থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। বহু মানুষ দাবি করেছেন, আকাশে একটি জ্বলন্ত বস্তুকে ছুটে যেতে দেখেছেন। অনেকে মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) পোস্টও করেছেন। তাঁদের অনুমান, সেটি হয়তো এয়ারবেসের দিকে ছুটে যাওয়া কোনও ক্ষেপণাস্ত্র (Missile) ছিল।
শহরজুড়ে দমকল (Fire Engines) ও নিরাপত্তা বাহিনীর (Security Forces) সাইরেনও দীর্ঘক্ষণ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
আগেও ক্ষেপণাস্ত্র আটকেছে ন্যাটো
এর আগেও তুরস্কের আকাশসীমায় (Turkish Airspace) ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল (Ballistic Missile) আটকেছিল ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (NATO Air Defence)। শুক্রবার দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ন্যাটো (NATO)। গত পাঁচ দিনের মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র।
এই ঘটনার পর তেহরানকে (Tehran) কড়া বার্তা দিয়েছে তুরস্ক সরকার। তাদের বক্তব্য, আর কোনও “উস্কানিমূলক পদক্ষেপ” (Provocative Steps) করা চলবে না।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) আদানায় থাকা নিজেদের কনস্যুলেট (US Consulate) বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে থাকা সব মার্কিন নাগরিককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে।
কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি
ইনসিরলিক এয়ারবেস (Incirlik Air Base) ছাড়াও তুরস্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো ঘাঁটি রয়েছে কুরেজিক (Kurecik)। দেশটির মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে সম্প্রতি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Patriot Missile Defence System) মোতায়েন করা হয়েছে।
মার্কিন–ইজরায়েল বনাম ইরান সংঘাত (US–Israel War Against Iran) শুরুর পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ার নানা এলাকায় হামলা চালাচ্ছে তেহরান। এতদিন সেই সংঘাত থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে ছিল তুরস্ক। তবে ইনসিরলিক ঘাঁটিকে ঘিরে এই ঘটনাই নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিল আন্তর্জাতিক মহলে।