এক টুর্নামেন্টকে ঘিরে যুদ্ধ, কূটনীতি আর মানবিক সংকট—একসঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। বিশ্বকাপের মাঠে বল গড়ানোর আগেই লড়াই চলছে রাজনীতির আঙিনায়।

ট্রাম্প ও ইনফান্তিনো
শেষ আপডেট: 13 March 2026 10:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনই বলছেন স্বাগত, আবার এখনই পরামর্শ দিচ্ছেন না আসার! ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ট্রেডমার্ক দ্বিচারিতাই আপাতত বিশ্বকাপ-আলোচনার কেন্দ্রে। ইরান ফুটবল টিম রাজনৈতিক ডামডোলের মধ্যেও আমেরিকার মাটিতে খেলতে পারবে—জানিয়ে গত পরশু অভ্যর্থনা জানানোর পর এবার সেখান থেকে একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে ট্রুথ সোশালে পোস্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘ইরানের জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত। কিন্তু নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের না আসাটাই সমীচীন বলে মনে হয়!’
আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিমান হামলায় তেহরান বিধ্বস্ত। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। ট্রাম্পের মন্তব্য সেই সিদ্ধান্তকে কার্যত আরও পোক্ত করে দিল।
বিশ্বকাপে ইরানের ভবিষ্যৎ কী?
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোয় ৪৮ দলের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026)। ইরানের ম্যাচ ছিল লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে। তা কতটা দেখা যাবে, বলা মুশকিল। আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার এখনও হয়নি। হলে আধুনিক বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন ঘটনা প্রথম। ফিফা (FIFA) সেক্ষেত্রে বিকল্প দল খোঁজার চাপে পড়বে—হাতে সময় তিন মাসেরও কম। গত সপ্তাহে আটলান্টায় বিশ্বকাপ অংশগ্রহণকারী দলগুলির পরিকল্পনা বৈঠক হয়েছে। যেখানে ইরানের কোনও প্রতিনিধি হাজির হননি।
মহিলা দল আশ্রয় নিল অস্ট্রেলিয়ায়
এই অস্থির পরিস্থিতিতে আরও একটি বড় খবর। ইরানের মহিলা ফুটবল দলের পাঁচ সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় মানবিক ভিসার আবেদন করে আশ্রয় পেয়েছেন। এশিয়া কাপের ম্যাচে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় দেশে ফিরলে নিপীড়নের আশঙ্কা ছিল। ট্রাম্প নিজে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজকে অনুরোধ করেছিলেন আশ্রয় দিতে—অন্যথায়, আমেরিকা দেবে।
সব মিলিয়ে এক টুর্নামেন্টকে ঘিরে যুদ্ধ, কূটনীতি আর মানবিক সংকট—একসঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। বিশ্বকাপের মাঠে বল গড়ানোর আগেই লড়াই চলছে রাজনীতির আঙিনায়।