ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে আমেরিকার সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে (United Nation) নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের দাবি জানিয়েছে তেহরান (Tehran)।
.jpeg.webp)
চিঠি পাঠাল ইরান
শেষ আপডেট: 22 June 2025 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে আমেরিকার সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে (United Nation) নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের দাবি জানিয়েছে তেহরান (Tehran)। রোববার এক চিঠিতে রাষ্ট্রপুঞ্জে ইরানের (Iran) রাষ্ট্রদূত আমির সইদ ইরাভানি এই আবেদন জানান। আমেরিকার “অসৎ ও বেআইনি আগ্রাসনের” বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রপুঞ্জ সনদের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহি করানোর আর্জি জানান তিনি।
চিঠিতে রাষ্ট্রদূত লেখেন, “জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর অঙ্গকে অবশ্যই সবরকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে এই বেআইনি আগ্রাসনের জন্য আমেরিকাকে আন্তর্জাতিকভাবে দায়ী করা যায়।”
ইরানের অভিযোগ, ১৩ জুন ইসরায়েল তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে ‘বিস্তৃত সামরিক হামলা’ চালিয়েছে। সেই ঘটনার ঠিক পরেই আমেরিকার এই হামলা আরও একধাপ উত্তপ্ত করে তুলেছে পশ্চিমী দুনিয়ার পরিস্থিতি।
এদিন সকালে আমেরিকা তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালায়—এই প্রথমবার, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানের অভ্যন্তরে এমন জোরালো সামরিক হস্তক্ষেপ করল ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অনেকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ বাজি’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। কারণ, এতে একদিকে যেমন ইরানের পারমাণবিক পরিকাঠামো দুর্বল হতে পারে, তেমনই বাড়তে পারে যুদ্ধের সম্ভাবনা।
হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, “ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।” যদিও নিরপেক্ষ কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থা সেই ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করেনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, “এরপর হয় শান্তি না হলে অথবা ইরানের জন্য শোক নেমে আসবে। যদি তারা পাল্টা হামলা চালায়, তাহলে আমেরিকা আরও কড়া জবাব দেবে।” তবে তিনি কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই এই সামরিক পদক্ষেপ নেন, যার ফলে দেশের অভ্যন্তরেও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, “এই হামলার পরিণাম চিরস্থায়ী হবে। ইরান নিজের প্রতিক্রিয়া জানানোর সব ধরনের অধিকার সংরক্ষণ করে।”
তেহরানের তরফে বারবার বলা হচ্ছে, ইরান শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র এবং তাদের পরমাণু কর্মসূচি শুধুমাত্র নাগরিক ব্যবহারের জন্য। কিন্তু আমেরিকা ও ইজরায়েল বারবার সন্দেহ প্রকাশ করেছে যে তেহরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে।
এই পরিস্থিতিতে নজর এখন রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের দিকে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে সার্বভৌম দেশের উপর সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে। তবে পশ্চিমী দুনিয়ায় বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতার জেরে নিরাপত্তা পরিষদের কী পদক্ষেপ হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।