
জেগে উঠেছে মাউন্ট রুয়াং।
শেষ আপডেট: 18 April 2024 12:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্দোনেশিয়ার আবারও জাগল আগ্নেয়গিরি। এতদিন ঘুমিয়েছিল রুয়াং। থরথর করে মাটি কাঁপতেই তেড়েফুঁড়ে উঠল সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। গলগলিয়ে ধোঁয়া বেরোচ্ছে আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে। বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে গ্রামের পর গ্রাম। আকাশ ছেয়ে গেছে ধোঁয়া-ছাই গ্যাসে। এত ভয়ঙ্করভাবে লাভা উদ্গীরণ হচ্ছে, মাটি কাঁপছে যে সুনামির সতর্কতা জারি হয়েছে ইন্দোনেসিয়ায়।
ইন্দোনেশিয়ার উত্তরে সুলাওয়েসি দ্বীপে রয়েছে এই আগ্নেয়গিরি। এই আগ্নেয়গিরি থেকে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ৮০০-৯০০টি বসতি এলাকা। রয়েছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানপাট। বুধবার আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাসিন্দা, পর্যটকদের মধ্যে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১০টা নাগাদ থরথর করে কেঁপে ওঠে মাটি। বুধবার রাতে চারবার কম্পন হয়। তারপরেই আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে ধোঁয়া, ছাই বের হতে শুরু করে। কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ধোঁয়া আর ছাইতে ভরে যায়।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা এজেন্সি জানিয়েছে, সুনামির সতর্কতা জারি হয়েছে। অন্তত ১১ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ভলক্যানোলজি অ্যান্ড জিওলজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন সেন্টারের তরফে জানানো হয়েছে, কিছুদিন আগেই এই আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ ফের জেগে উঠতে শুরু করেছিল। রাতের দিকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছিল। আগ্নেয়গিরির সংলগ্ন গ্রামগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
বুধবার ভোরে বিকট বিস্ফোরণ শোনা যায়। থরথর করে কেঁপে ওঠে মাটি। আতঙ্কে সকলে বাইরে আসে। দেখা যায়, গলগল করে ধোঁয়া বের হচ্ছে আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে। এরপর লাগাতার বিস্ফোরণ হয়ে চলেছে। জ্বালামুখ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া, ছাইয়ের স্তর বেরিয়ে গ্রামের পর গ্রাম ঢেকে ফেলেছে। তবে এখনও অবধি হতাহতের কোনও খবর মেলেনি।
আগ্নেয়গিরির সংলগ্ন এলাকাকে রেড জ়োন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ২০১৩-১৪ সালে ভয়ঙ্কর অগ্ন্যুৎপাত ঘটিয়েছিল মাউন্ট সিনাবাং। ২০১৬ সালে আরও ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ হয়। অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় সাত জনের মৃত্যুর খবর মেলে। ছাইয়ের বৃষ্টি শুরু হয় গ্রামগুলিতে। ঘরবাড়ি, গাছপালা ঢেকে যায় পুরু ছাইয়ের স্তরে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৮ হাজার গ্রামবাসীকে কয়েক সপ্তাহের জন্য ত্রাণ শিবিরে রাখতে হয়েছিল।