
শেষ আপডেট: 28 December 2023 11:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরনে সবুজ জ্যাকেট। শয়ে শয়ে ছাত্র যেন মারমুখী। তারা দল বেঁধে ছুটে যাচ্ছে কনভেনশন সেন্টারের দিকে। সেখানে তখন মাটিতে বসে আতঙ্কে কাঁদছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। মহিলারা শিশুদের বুকে আঁকড়ে ধরছে। অনেকে ভয়ে, আতঙ্কে আর্তনাদ করছে। আক্রমণাত্মক ছাত্রদের কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না পুলিশ। গোটা কনভেনশন সেন্টার জুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। এমনই ছবি ধরা পড়েছে ইন্দোনেশিয়ার বান্দা আচেহ শহরে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে আশ্রয় দেওয়া যাবে না, এমনই দাবি বিক্ষোভকারীদের। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সকলেই স্কুল বা কলেজের ছাত্র। তারা দল বেঁধে এসে হামলা চালিয়েছে বান্দা আচেহ শহরের একটি কনভেনশন সেন্টারে। তাঁদের স্লোগান ছিল, 'রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাও।' কনভেনশন সেন্টারে সেই সময় ছিল রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। বেশিরভাগই মহিলা ও শিশু। মারমুখী ছাত্রদের দেখে ভয় পেয়ে যায় তারা। আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকে।
এই ঘটনার ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীদের অনেকেরই পরনে সবুজ জ্যাকেট এবং তাঁরা ভবনের বড় বেসমেন্টের দিকে ছুটছেন। সেখানে রোহিঙ্গা পুরুষ, নারী ও শিশুরা মেঝেতে বসে ভয়ে কান্নাকাটি করছিল। পরে রোহিঙ্গাদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।
বারে বারে রোহিঙ্গারা আশ্রয় খুঁজেছেন বাংলাদেশে, বারে বারে অনাহূত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন সেখানে এবং তার পর তাইল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ায়। বাংলাদেশ সরকার বহু দিন ধরেই স্পষ্টত বলে দিয়েছে, তারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে রাজি নয়। ১৯৯২ থেকে বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনএইচসিআর নতুন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের স্বীকৃতি দান বন্ধ করেছে। তবে ইন্দোনেশিয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। শয়ে শয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী ইন্দোনেশিয়ায় আশ্রয় পেয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আশ্রয়হীন, নিঃসহায় রোহিঙ্গাদের উপর এমন আক্রমণ দেখে আমরা মর্মাহত। যাদের উপর আক্রমণ চালানোর চেষ্টা হয়েছে তাদের অধিকাংশই মহিলা ও শিশু। উদ্বাস্তদের প্রতি এমন আচরণ কখনওই কাম্য হয়।”