সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানের ভেতরে যাত্রীরা কেউ দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ আবার ফোনে খবর খুঁজছেন। অনেকেই আবার বোঝার চেষ্টা করছেন ফ্লাইট আদৌ ছাড়বে কি না।

ছবি ভিডিও থেকে সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 22 September 2025 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ভিসা সংক্রান্ত (H1B Visa) নতুন সিদ্ধান্তে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা গেল ভারতগামী এক এমিরেটস বিমানে (Emirates Flight)। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, H-1B ভিসার জন্য আবেদন ফি ১ লক্ষ ডলার হয়েছে। এর পরেই সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে আতঙ্কের মধ্যে পড়েন বহু ভারতীয় যাত্রী (India Passengers)। বিমানে উঠে গেলেও বহু ভারতীয় নেমে যেতে শুরু করেন। ফলে ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হয় প্রায় তিন ঘণ্টা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানের ভেতরে যাত্রীরা কেউ দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ আবার ফোনে খবর খুঁজছেন। অনেকেই আবার বোঝার চেষ্টা করছেন ফ্লাইট আদৌ ছাড়বে কি না।
অন্য এক ভিডিওতে শোনা যায় বিমানের ক্যাপ্টেন নিজে ঘোষণা করছেন, ‘‘এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য অভূতপূর্ব। আমরা জানি অনেক যাত্রী ভ্রমণ করতে চাইছেন না। এতে কোনও অসুবিধা নেই। তবে যারা নামতে চান, তারা দয়া করে এখনই নেমে যান।’’
এক যাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘‘এমিরেটস যাত্রীদের জন্য একেবারে দুর্ভোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্পের নতুন নির্দেশে বর্তমান ও ভবিষ্যতের H-1B ভিসাগ্রাহকরা মুশকিলে পড়েন। আতঙ্কে অনেক ভারতীয় যাত্রী বিমানে উঠে গেলেও আর দেশে ফিরতে চাননি। সঙ্গে সঙ্গে নেমে যান।''
আমেরিকা প্রশাসনের ঘোষণায় কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখা বিদেশিদের জন্য (Troubles for Indians) আরও এক নতুন বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এখন থেকে যে কোনও কোম্পানিকে একজন বিদেশি কর্মীকে H-1B ভিসায় স্পনসর করতে বছরে দিতে হবে ১ লাখ মার্কিন ডলার—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা (₹90 lakhs for H-1B visa)!
হোয়াইট হাউসের দাবি, এই সিদ্ধান্তে মার্কিন কর্মীদের চাকরি সুরক্ষিত হবে এবং কেবলমাত্র উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীরাই আমেরিকায় কাজের সুযোগ পাবেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের দেশকে সেরা কর্মী চাই। এই প্রোক্লেমেশন নিশ্চিত করবে, আমেরিকা এখন থেকে কেবল ভালো কর্মীই পাবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের নয়া সিদ্ধান্তে চাপে ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলি। কারণ, H-1B ভিসার ক্ষেত্রে বরাবরই সবচেয়ে বড় অংশীদার ভারত। শুধু গত বছরেই মোট ভিসাধারীদের ৭১ শতাংশ ছিলেন ভারতীয়রা। মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, মেটা-সহ একাধিক মার্কিন টেক জায়ান্টের হাজার হাজার ভারতীয় কর্মী রয়েছেন এই ভিসায়। ফলে নতুন ফি কাঠামোয় সবচেয়ে বড় ধাক্কা ভারতীয়দেরই লাগবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
তবে এই ঘোষণা হওয়ার পরই প্রযুক্তি সংস্থা মাইক্রোসফট (Microsoft) এবং শীর্ষ বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক জেপি মর্গান (JPMorgan) তাঁদের H-1B ও H-4 ভিসাধারী কর্মীদের সতর্ক করে জানিয়েছিল, যাঁরা বর্তমানে আমেরিকার বাইরে আছেন, তাঁরা যেন ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরেন।
ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে আগামী ১২ মাসের জন্য। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্প চাইলে এই মেয়াদ আরও বাড়াতে পারেন। আগেও তাঁর প্রথম প্রেসিডেন্সি চলাকালীন H-1B ভিসা নিয়ে একাধিকবার সীমাবদ্ধতা আরোপের চেষ্টা হয়েছিল, যদিও তা আদালতে আটকে গিয়েছিল।