বহু বছর ধরে এই পেশায় যুক্ত ছিলেন দেবানন্দন। পরিবার নিয়ে আগে বিহারে থাকলেও ২০১৯ সালে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মুম্বইয়ে বসবাস শুরু করেন। পণ্যবাহী জাহাজে দায়িত্ব সামলে বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রপথে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।

দেবানন্দন প্রসাদ সিং
শেষ আপডেট: 13 March 2026 16:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের (Iran Israel War) মাঝেই এক ভারতীয়র মৃত্যুর খবর সামনে এসেছিল। ইরাকের কাছে একটি আমেরিকান তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান (US Oil Tanker Attack)। এবার সেই ঘটনায় মৃত নাবিকের (Indian Killed In Iran) পরিচয় সামনে এল। তাঁর নাম দেবানন্দন প্রসাদ সিং। বয়স পঞ্চাশের কোঠায়। তিনি মুম্বইয়ের কান্দিভলি পূর্ব এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।
বহু বছর ধরে এই পেশায় যুক্ত ছিলেন দেবানন্দন। পরিবার নিয়ে আগে বিহারে থাকলেও ২০১৯ সালে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মুম্বইয়ে বসবাস শুরু করেন। পণ্যবাহী জাহাজে দায়িত্ব সামলে বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রপথে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।
দু'দিন আগে পারস্য উপসাগরের কাছে একটি তেলের জাহাজে আকস্মিক ড্রোন হামলা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলের তলা থেকে হওয়া ওই হামলায় জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটে। রাতের অন্ধকারে সেই বিস্ফোরণের আগুন দূর থেকে দেখা যায়। সেই বিস্ফোরণেই গুরুতর জখম হন দেবানন্দন প্রসাদ সিং। পরে চিকিৎসার সময় তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
দেবানন্দন যে জাহাজে কর্মরত ছিলেন সেটি একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ। ওই জাহাজে অতিরিক্ত প্রধান ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ড্রোন আঘাতের পর জাহাজে আগুন ধরে যায়। সেখান থেকে অন্তত পনেরো জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দেবানন্দনের মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবারে। স্ত্রী ও দুই সন্তান ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত কর্মীর পরিবারের পাশে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষ হামলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে। কীভাবে জাহাজটি লক্ষ্য করে আঘাত করা হল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত পরিস্থিতির জেরে সমুদ্রপথে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান আগেই সতর্ক করে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করা হতে পারে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে যাতায়াত করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পাল্টা হিসেবে ইরানের প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ফলে পারস্য উপসাগর ঘিরে অস্থিরতা এখনও কাটেনি বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
অন্যদিকে, ওমানের সাল্লাহ বন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ওই হামলায় একাধিক জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। যদিও ওমানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের কোনও বড় ক্ষতি হয়নি। এই ঘটনার পর ইরানের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ওমানের সুলতান। ওমানের মাটিতে ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দাও জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।