‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। সেই সময় আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের পাশে দাঁড়ায়নি তুরস্ক। বরং পাকিস্তানকে সরাসরি সমর্থন জানায় তারা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 August 2025 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার (Pahalgam Attack) পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযান (Operation Sindoor) করেছিল ভারত। সেই সময়ে পাকিস্তানের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিল গুটিকয়েক দেশ, তার মধ্যে ছিল তুরস্ক (Turkey)। সেই কারণে ভারতীয়রা তুরস্ককে বয়কট করার ডাক দিয়েছিল। আর সেই ডাক যে সফল হয়েছে তা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানই স্পষ্ট হয়ে গেছে।
চলতি বছরের জুন মাসে ৩৬ শতাংশ কম ভারতীয় পর্যটক (Tourists) গিয়েছেন তুরস্কে। মে মাসে সেই পতনের হার ছিল ২৪ শতাংশ। সরকারি তথ্য বলছে, এই পতনের জেরে ২০২৫ সালের প্রথম ছ’মাসে তুরস্কে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা কমেছে ১৫ শতাংশ।
তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৫-এ তুরস্কে গিয়েছেন ২৪ হাজার ২৫০ জন ভারতীয়। গত বছর জুনে সংখ্যাটি ছিল ৩৮ হাজার ৩০৭। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তুরস্কে গিয়েছেন ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ২১৫ জন ভারতীয় পর্যটক, যেখানে ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে সংখ্যাটি ছিল ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩৭৩।
‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। সেই সময় আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের পাশে দাঁড়ায়নি তুরস্ক। বরং পাকিস্তানকে সরাসরি সমর্থন জানায় তারা। তারপর থেকেই তুরস্ক ঘুরতে না যাওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার জোরদার হয়। একাধিক অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি তুরস্কে বুকিং নেওয়া বন্ধ করে দেয় বা সতর্কবার্তা জারি করে। এর আগে মালদ্বীপের বিরুদ্ধেও এমনই জন-আন্দোলন দেখা গিয়েছিল, যার জেরে সেই দেশের পর্যটন ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা এসেছিল ভারতের দিক থেকে।
সম্প্রতি লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করেছিলেন, ভারতের অভিযানের সময় তিনটি দেশ পাশে দাঁড়ায়নি তাঁদের। তিনি নাম না করলেও বোঝা যায়, সেই তিনটি দেশ ছিল চিন, তুরস্ক ও আজারবাইজান।
এদিকে এও জানা গেছে, তুরস্কে থাকা ভারতীয় সংস্থাগুলিও ক্ষতির মুখে পড়ছে। সেলেবি নামে একটি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংস্থার লাইসেন্স সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির কর্মীদের অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, সেলেবি ইন্ডিয়ার মূল মালিকানাই ছিল তুরস্কের হাতে।