Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
পদ খোয়ানোর পর এবার নিরাপত্তা! রাঘব চাড্ডার Z+ সুরক্ষা তুলে নিল পাঞ্জাব সরকার, তুঙ্গে জল্পনাফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের‘ফোর্স ৩’ শুটিং জোরকদমে, পুরনো চরিত্রে ফিরছেন জন— নতুন চমক কারা?'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটিরইচ্ছেশক্তির বারুদে আগুন ধরাল ধোনির পেপ টক! নাইটদের বিঁধে দুরন্ত কামব্যাক নুর আহমেদেরময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতি

আগুনেও বুকছাড়া করেননি মা, এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনায় ছোট্ট শরীর পুড়ে গেলেও বেঁচে ফিরল ৮ মাসের শিশু

পাঁচ সপ্তাহের কঠিন লড়াইয়ের পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান মা ও সন্তান। অসহনীয় যন্ত্রণার ভিতর দিয়েও মায়ের ভালবাসা আবার নতুন জীবন দিয়েছে ধ্যানশকে।

আগুনেও বুকছাড়া করেননি মা, এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনায় ছোট্ট শরীর পুড়ে গেলেও বেঁচে ফিরল ৮ মাসের শিশু

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 28 July 2025 17:05

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধোঁয়া, আগুন, আর গনগনে তাপের মাঝেও নিজের ৮ মাসের ছেলেকে আগলে রেখেছিলেন মা মনীষা কচ্ছাড়িয়া। গত ১২ জুন, এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হলেও, অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় ধ্যানশ, মাত্র আট মাসের এক শিশু। আর তার জীবন বাঁচানোর নেপথ্যে আছে এক মায়ের লড়াই, যিনি শুধু শরীর দিয়ে সন্তানকে আগুন থেকে বাঁচাননি, দিয়েছিলেন নিজের চামড়াও।

পাঁচ সপ্তাহ ধরে কঠিন লড়াইয়ের পর অবশেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান মা ও সন্তান। আগুন, ধোঁয়া আর যন্ত্রণার ভিতর দিয়েও মায়ের ভালবাসা আজ আবার এক নতুন জীবন দিয়েছে ধ্যানশকে।

ধ্যানশের বাবা কপিল কচ্ছাড়িয়া, আমদাবাদের বিজে মেডিক্যাল কলেজে ইউরোলজিতে এমচ-র (MCh) ছাত্র। দুর্ঘটনার সময় তিনি হাসপাতালেই ডিউটিতে ছিলেন। ঠিক তখনই তাদের আবাসিক কোয়ার্টারে ধাক্কা মারে বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমানটি।

ঘটনার দিনের কথা মনে করে মনীষা বলেন “এক মুহূর্তেই চারপাশ অন্ধকার, তারপরে ঘরে আগুন আর তীব্র তাপ।” সেই ভয়াবহ মুহূর্তে ছেলেকে তুলে নেন কোলে। আগুনের মধ্যে দিয়ে ছুটে বেরোনোর চেষ্টাও করেন। কিন্তু গাঢ় ধোঁয়া আর লেলিহান শিখা ভেদ করে কোনও কিছুই দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল না। কোনওরকমে বেঁচে বেরিয়ে আসতে পারলেও দু’জনের শরীরই পুড়ে যায়।

মনীষার মুখ ও হাতে ২৫% পোড়া ক্ষত তৈরি হয়, আর ধ্যানশের শরীরের ৩৬% — মুখ, বুক, পেট ও দুই হাতে ক্ষত ছিল গুরুতর। সঙ্গে সঙ্গে দু’জনকে কেডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটিকে রাখা হয় PICU-তে (Paediatric Intensive Care Unit)। ভেন্টিলেটর সাপোর্ট, ফ্লুইড থেরাপি, ব্লাড ট্রান্সফিউশন – চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি চিকিৎসকরা।

বাচ্চার বয়স কম হওয়ায় চিকিৎসা ছিল অত্যন্ত জটিল, ঝুঁকিরও বটে। ক্ষতের জায়গায় স্কিন গ্রাফ্ট লাগবে জেনে মনীষা নিজের শরীরের চামড়া দেন সন্তানের জন্য।

চিকিৎসক দলের সদস্য প্লাস্টিক সার্জন ডাঃ রুতভিজ পারিখ বলেন, “শিশুর নিজের চামড়ার সঙ্গে মায়ের স্কিন গ্রাফ্ট দিয়েই চিকিৎসা করা হয়। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সংক্রমণ আটকানো এবং ভবিষ্যতে বাচ্চার বৃদ্ধি যাতে বাধা না পায়, তা নিশ্চিত করা।”

ডাঃ পারিখ জানান, “ডাঃ কপিল নিজে একজন চিকিৎসক হওয়ায় অনেক সময় রাতে ঘুম থেকে উঠে এসে নিজে বাচ্চার ড্রেসিং ঠিকঠাক করে দিতেন।”

চিকিৎসক দলে আরও ছিলেন স্নেহাল পটেল, তুষার পটেল ও মানসী দান্ডনাইক। ধ্যানশের ফুসফুসে রক্ত জমে যাওয়ায় এক পাশে ভীষণ চাপ পড়ে। ফলে ফুসফুসের সাপোর্ট দিতে ভেন্টিলেটর ও ইন্টারকোস্টাল ড্রেনেজ টিউবও বসাতে হয়।

“এক সময় মনে হয়েছিল আমরা আর বেরোতে পারব না। কিন্তু ছেলের জন্য বেরোতেই হতো। যে যন্ত্রণার সময় গিয়েছে, ভাষায় বোঝানো যাবে না,” বলেন মনীষা।


```