অভিযোগকারীর দাবি, তিনি বাধ্য হয়ে শেষে রাজি হলেও স্পষ্ট করে বলে দেন, 'আমি আপনাকে ঘৃণা করি, আপনি আমার কথা শোনেননি।' প্রসবের পর দেখা যায়, শিশুর মাথা ও মুখে চোট লেগেছে। পরে তিনি জানান, এই পুরো অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
.jpg.webp)
ব্রিটেনে সাসপেন্ড ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক
শেষ আপডেট: 9 July 2025 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ডের মিল্টন কেইনস ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে কর্মরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্ট (Indian-origin consultant gynaecologist) ডা: প্রমিলা থাম্পির বিরুদ্ধে গুরুতর পেশাগত অনিয়মের অভিযোগে ব্যবস্থা নিল ব্রিটেনের মেডিক্যাল ট্রাইব্যুনাল (Guilty of serious professional misconduct)। অভিযোগ, ২০১৬ সালে এক প্রসূতি বারবার সিজারে শিশু জন্ম দিতে চেয়ে অনুরোধ করেছিলেন, অথচ ডা: থাম্পি জোর করে ফোর্সেপ ব্যবহার করেন। এরফলে শিশুর মাথা ও মুখে চোট লাগে। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মা।
ঘটনাটি ঘটে ২০১৬ সালের অক্টোবরে, যখন ৪১ সপ্তাহের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ভর্তি হয়েছিলেন মিল্টন কেইনস ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে (Milton Keynes University Hospital)। তাঁর আগে থেকে একটি নিউরোমাসকুলার (স্নায়ু-সম্পর্কিত) সমস্যা ছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শেই তিনি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করতে চেয়েছিলেন। অভিযোগ, প্রমিলা থাম্পি কেবিনে ঢুকে তাঁকে জানান যে ফোর্সেপ দিয়ে ডেলিভারি করা হবে। প্রসূতির দাবি, তিনি তখনই জোর দিয়ে ফোর্সেপে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবুও চিকিৎসক কোনও কথা না শুনেই কেবল নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে সিদ্ধান্ত কার্যত চাপিয়ে দেন।
অভিযোগকারীর দাবি, তিনি বাধ্য হয়ে রাজি হলেও শেষে বলেন, 'আমি আপনাকে ঘৃণা করি, আপনি আমার কথা শোনেননি।' প্রসবের পর দেখা যায়, শিশুর মাথা ও মুখে চোট লেগেছে। পরে তিনি জানান, এই পুরো অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
অভিযোগকারী আরও জানান, চিকিৎসক প্রমিলা থাম্পি তাঁকে বলেছিলেন, 'আমি একজন কনসালট্যান্ট। সন্ধ্যা ৬টার পর চাইলে রেজিস্ট্রারদের হাতে কাজ ছেড়ে বাড়ি চলে যেতে পারতাম।' ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনারস ট্রাইব্যুনাল সার্ভিস (MPTS) শুনানিতে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ প্রমিলা থাম্পিকে গুরুতর পেশাগত অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ার টেহনিয়ত ওয়াটসন বলেন, 'যদিও এই ঘটনা বহু বছর আগের এবং মাত্র একজন মাত্র রোগীকে কেন্দ্র করে, তবুও চিকিৎসার সময় রোগীর সম্মতি না নেওয়া এবং তাঁর উপর চাপ তৈরি করার মতো ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর। সমাজের আস্থার স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।'
ডা: থাম্পিকে তিন সপ্তাহের জন্য সাময়িক বরখাস্ত (Suspended) করা হয়েছে। সেই সময়ে তিনি চিকিৎসা পরিষেবা দিতে পারবেন না। প্রমিলা থাম্পি নিজের বয়ানে জানান, প্রসূতির আপত্তির কথা তিনি স্বীকার করেছেন, তবে সেই সময় তাঁর ক্লিনিক্যাল জাজমেন্ট অনুযায়ী সিজারিয়ান করা নিরাপদ ছিল না বলেই ফোর্সেপ ব্যবহার করেছিলেন।