মার্কিন মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা এখন কপারের দিকেই নজর দিচ্ছি। এর ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসাতে চলেছি।' এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে কপারের দাম এক ধাক্কায় বেড়ে যায়।
.jpeg.webp)
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 9 July 2025 23:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ফের একবার কড়া শুল্ক নীতি (New Tarriff) ঘোষণা করলেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের দুই গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতে- কপার (Copper) ও ফার্মাসিউটিক্যালস (Pharmaceuticals) বা ওষুধে। ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, কপার আমদানির উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। ভবিষ্যতে ওষুধের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ২০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ১ অগাস্ট থেকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না।
মার্কিন মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা এখন কপারের দিকেই নজর দিচ্ছি। এর ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসাতে চলেছি।' এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে কপারের দাম এক ধাক্কায় বেড়ে যায়। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জানান, জুলাইয়ের শেষ বা ১ অগাস্ট থেকে এই শুল্ক কার্যকর হতে পারে।
ভারত ২০২৪-২৫ সালে বিশ্ববাজারে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের কপার রপ্তানি করেছে। এরমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেছে ৩৬০ মিলিয়ন ডলারের কপার যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৭ শতাংশ। সৌদি আরব ও চিনের (China) পরে মার্কিন বাজার ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্কের ফলে আমেরিকায় ভারতের কপার রপ্তানিতে কিছুটা ধাক্কা লাগলেও, কপার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি খনিজ হওয়ায় দেশীয় শিল্পই এর বড় অংশ শুষে নিতে পারবে।
ট্রাম্প আরও জানান, আমেরিকায় ওষুধ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে বিদেশি ওষুধ সংস্থাগুলিকে দেশে ইউনিট সরিয়ে আনার জন্য এক থেকে দেড় বছরের সময় দেওয়া হবে। তারপর থেকে ওষুধ আমদানির উপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হতে পারে।
এই ঘোষণায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে ভারত। কারণ আমেরিকা ভারতের সবচেয়ে বড় ওষুধ রপ্তানি করার বাজার। ২০২৪-২৫ সালে এই খাতে ভারতের রপ্তানি বেড়েছে ২১ শতাংশ যা দাঁড়িয়েছে ৯.৮ বিলিয়ন ডলারে। এই সংখ্যাটা ভারতের মোট ওষুধ রফতানির ৪০ শতাংশের কাছাকাছি।
চলতি শুল্ক হারেই যেখানে ভারতের জেনেরিক ওষুধ আমেরিকায় সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি হয়, সেখানে ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপলে সেই প্রতিযোগিতার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাবে। এতে আমেরিকায় ভারতের ওষুধের চাহিদা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে ভারতের ভরসা একটাই, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলতে থাকা একটি ছোট পরিসরের বাণিজ্য চুক্তি। আলোচনা চলছে, কিন্তু তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১ অগাস্টের আগেই যদি ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তাহলে ভারতের উপর এই নতুন শুল্কের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। কারণ এই ধরনের চুক্তিতে নির্দিষ্ট খাতগুলিকে শুল্ক থেকে ছাড় দেওয়া যায়।
শুধু ভারত বা ফার্মা নয়, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন BRICS দেশগুলিকেও। তাঁর কথায়, 'BRICS দলটা খুব একটা গুরুত্বপুর্ণ কিছু নয়। ওরা আমেরিকার ডলারের আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে চাইছে। করতে পারে, কিন্তু তার জন্য মূল্য দিতে হবে। BRICS দেশগুলির পণ্যের উপর আমরা ১০ শতাংশ শুল্ক বসাব।'
ট্রাম্পের শুল্ক নীতির নতুন রূপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, বিশেষত ওষুধ রপ্তানির দিক থেকে। ১ অগাস্টের আগেই ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।