ভিসা জালিয়াতির ক্ষেত্রে অভিযোগ, বিদেশি কর্মী - বিশেষত ভারতীয়দের নিয়োগের নামে ভুয়ো আবেদন জমা দেওয়া হত। ওই কর্মীদের আমেরিকায় এনে তাঁদের বেতনের একটি অংশ আবার এই গোষ্ঠীকে ফেরত দিতে বাধ্য করা হত বলে অভিযোগ।

দোষী সাব্য়স্ত দুই ভাই
শেষ আপডেট: 13 March 2026 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক জালিয়াতির (US Crime) মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই ভাই (Indian Origin Brothers Convicted)। পেনসিলভানিয়ার বাসিন্দা ভাস্কর সাভানি এবং অরুণ সাভানিকে বিস্তৃত এক অপরাধচক্র চালানোর অভিযোগে দোষী বলে ঘোষণা করেছে আদালত। এই মামলায় তাঁদের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত আলেকসান্দ্রা রাডোমিয়াকও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
সরকারি আইনজীবীদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছিল এই চক্র। ভিসা জালিয়াতি, চিকিৎসা বিমা প্রতারণা, অর্থ পাচার এবং কর ফাঁকির মতো একাধিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল এই গোষ্ঠী। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ‘সাভানি গ্রুপ’ নামে একটি জটিল অপরাধচক্র তৈরি করে এই সব কাজ চালানো হত।
এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ভাস্কর সাভানির সর্বোচ্চ ৪২০ বছর এবং অরুণ সাভানির সর্বোচ্চ ৪১৫ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। তাঁদের সহযোগীর ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ৪০ বছরের কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী জুলাই মাসে আদালত এই মামলার সাজা ঘোষণা করবে।
ভিসা জালিয়াতির ক্ষেত্রে অভিযোগ, বিদেশি কর্মী - বিশেষত ভারতীয়দের নিয়োগের নামে ভুয়ো আবেদন জমা দেওয়া হত। ওই কর্মীদের আমেরিকায় এনে তাঁদের বেতনের একটি অংশ আবার এই গোষ্ঠীকে ফেরত দিতে বাধ্য করা হত বলে অভিযোগ।
তদন্তে আরও জানা যায়, চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রেও বড়সড় প্রতারণা চালানো হয়েছিল। অভিযোগ, সরকারি স্বাস্থ্য বিমা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত চুক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। পরে অন্যের নামে পরিচালিত দন্ত চিকিৎসালয়ের মাধ্যমে সেই বিমা কর্মসূচি থেকে বিপুল অর্থ আদায় করা হত। তদন্তকারীদের দাবি, এই কৌশলের মাধ্যমে প্রায় তিন কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এক চিকিৎসকের পরিচয় নম্বর ব্যবহার করে এমন দিনেও বিল তোলা হয়েছে, যখন তিনি আমেরিকার বাইরে ছিলেন। এমনকী যোগ্যতা না থাকা চিকিৎসকদের দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করিয়ে সেই খরচও বিমা কর্মসূচির কাছে দাবি করা হত।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন সংস্থার ব্যাঙ্ক হিসাব ব্যবহার করে ঘুরিয়ে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হত। পাশাপাশি ব্যবসায়িক খরচ দেখিয়ে ভুয়ো হিসাব দেওয়ার মাধ্যমে কর ফাঁকির অভিযোগও রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ব্যক্তিগত আয়ের প্রায় ষোল লক্ষ ডলার এবং কর্মীদের আয়ের প্রায় এগারো লক্ষ ডলার করের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল।
আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মানুষের শরীরে ব্যবহারের অনুমোদন না পাওয়া পরীক্ষামূলক দন্ত প্রতিস্থাপন যন্ত্র রোগীদের অজান্তেই ব্যবহার করা হয়েছিল।