সিডনির হর্নসবিতে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল ভারতীয় আইটি অ্যানালিস্টের। অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, মৃত্যু হয়েছে বাচ্চাটিরও।
.jpeg.webp)
সমন্বিতা ধারেশ্বর
শেষ আপডেট: 19 November 2025 11:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক ভারতীয় তরুণীর। মৃতার নাম সমন্বিতা ধারেশ্বর (Samanvitha Dhareshwar), বয়স ৩৩। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আট মাসের গর্ভবতী ছিলেন তিনি এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার কথা ছিল।
ঘটনা ঘটেছে গত সপ্তাহে, সিডনির হর্নসবি (Hornsby) এলাকার জর্জ স্ট্রিট (George St) সংলগ্ন রাস্তার ধারে। সেদিন রাতে প্রায় ৮টা নাগাদ স্বামী ও তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন সমন্বিতা। সেই সময় একটি কিয়া কার্নিভাল (Kia Carnival) গাড়ি ধীরগতিতে দাঁড়িয়ে পরিবারটিকে রাস্তা পার হতে দিচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে একটি বিএমডব্লিউ (BMW) এসে কিয়া গাড়িটিকে জোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার ফলে সেটি সামনের দিকে ছিটকে যায় এবং কাছের কার পার্কের প্রবেশদ্বারের সামনে দাঁড়ানো সমন্বিতার গায়ে লাগে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধাক্কা এতটাই জোরাল ছিল যে সমন্বিতা গুরুতরভাবে জখম হন। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাত লেগেছিল। তাঁকে দ্রুত ওয়েস্টমিড হাসপাতাল (Westmead Hospital) নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু চিকিৎসকেরা জানান, তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। গর্ভে থাকা সন্তানকেও বাঁচানো যায়নি।
বিএমডব্লিউ গাড়িটি চালাচ্ছিল ১৯ বছরের অ্যারন পাপাজোগ্লু (Aaron Papazoglu), যিনি একজন P-plater (P-plater) অর্থাৎ প্রভিশনাল লাইসেন্সধারী চালক। বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালানো এবং পেছন থেকে জোরে ধাক্কা মারার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, BMW এবং Kia— দুই গাড়ির চালকই সুস্থ আছেন। তবে সমন্বিতার স্বামী এবং তাঁদের তিন বছরের সন্তানের আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে পরিষ্কার করে কিছু জানা যায়নি।
লিঙ্কডইন (LinkedIn)-এর কিছু পোস্ট অনুযায়ী, সমন্বিতা আইটি অ্যানালিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিসনেস অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড সাপোর্ট (Business Application Administration and Support)-এ তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল। তিনি আল্সকো ইউনিফর্মস (Alsco Uniforms)-এ টেস্ট অ্যানালিস্ট (Test Analyst) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে, পুলিশ অভিযুক্তকে তাঁর ওয়ারুঙ্গা (Wahroonga) এলাকার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ডেনজারাস ড্রাইভিং ওকেশনিং ডেথ (Dangerous Driving Occasioning Death), নেগলিজেন্স ড্রাইভিং অকেশনিং ডেথ (Negligent Driving Occasioning Death) এবং কসিং দ্য লস অফ অ্যা ফেটাস (Causing the Loss of a Foetus)-এই তিনটি মারাত্মক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আদালত জামিন দিতে নারাজ।
পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলা Zoe’s Law (Zoe’s Law)–এর অধীনে চলতে পারে। ২০২২ সালে নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) রাজ্যে প্রণীত এই আইন অনুযায়ী, বিপজ্জনক বা অবহেলাজনিত ড্রাইভিংয়ের ফলে গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হলে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে মূল শাস্তির সঙ্গে অতিরিক্ত তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
পুলিশ ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছে এবং দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।