
শেষ আপডেট: 8 February 2024 23:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী হাছান মামুদ বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রক্তের সম্পর্ক অন্য কোনও দেশের সঙ্গে তুলনীয় নয়। ভারত সফররত বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের এক দশক’ শীর্ষক একক বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
তাঁর মতে, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কটি রক্তের বন্ধনের। অন্য কোনও দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে সঙ্গে কখনই ভারতের এক করে দেখা যায় না। চিন সেখানে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী মাত্র।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকারের অবদান বাংলাদেশ সব সময় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে যাবে।
বাংলাদেশে চিনের প্রভাব বাড়ছে, ঢাকা ক্রমে বেজিংয়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, নয়াদিল্লির এমন আশঙ্কা বাংলাদেশের অজানা নয়। সাম্প্রতিক অতীতে পড়শি দেশে চিনের বিনিয়োগের অঙ্ক নিয়ে শুধু ভারত নয়, পশ্চিমী দুনিয়াও চিন্তিত। চিন নির্ভরতা বাংলাদেশকে আর শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ করে তুলতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথাও নয়াদিল্লি নানা ভাবে শেখ হাসিনার সরকারকে বুঝিয়েছে।
এই ব্যাপারে নানা মহলের উৎকণ্ঠার জবাবে হাছান দিল্লির অনুষ্ঠানে চিন সম্পর্কে ঢাকার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কটি রক্তের বন্ধনের।
তিনি বলেন, এখন বছরে গড়ে ১৭ লাখ বাংলাদেশি ভারতীয় ভিসার আবেদন করে। দিন দিন এই সংখ্যা বাড়ছে। এই সংখ্যা দুই দেশের পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতার নজির সুসম্পর্কের পরিচয়ই বহন করে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দু'দেশের সম্পর্কের সোনালী অধ্যায় চলছে উল্লেখ করে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী বলেন, দুই দেশ বাণিজ্য বৃদ্ধি, সন্ত্রাসদমন, নাগরিক সম্পর্ক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শান্তি, নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একযোগে কাজ করছে। দু'দেশের মানুষের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে এই সম্পর্ক অনন্য অবদান রেখে চলেছে।
শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দু'দেশের সম্পর্কের সোনালী অধ্যায় চলছে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী।
বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আন্তরিক অবস্থানের উল্লেখ করতে সে দেশে সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন হাছান। তিনি বলেন, নির্বাচনবিরোধী দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে ভারত আমাদের পাশে ছিল, পাশে আছে।
ভাষণ শেষে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী দু'দেশের নাগরিকের সম্পর্ক, আন্তুর্জাতিক প্রেক্ষিত, রাজনীতি, বাণিজ্যসহ একাধিক বিষয়ে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, চিন্তাবিদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের জবাব দেন।
এক প্রশ্নের জবাবে হাছান বলেন, আমার দল আওয়ামী লিগ ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে। মাঝে মাঝে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের সম্পর্কে চিড় ধরাতে চায়। সেই অপচেষ্টা আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিহত করে চলেছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হাছান মাহমুদ তাঁর দেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও মুখ খোলেন। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চা হয়। এবারও গণতান্ত্রিক প্রক্রিযায় নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন আমাদের দেশে একটি উৎসব। ৭ জানুয়ারি আমাদের দেশে উৎসবের আমেজে নির্বাচন হয়েছে।
সেই নির্বাচনে ৪১ শতাংশ ভোটদান নিয়ে নানা মহলের সমালোচনার জবাব দেন হাছান। সাম্প্রতিক অতীতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ২০২১ সালে পর্তুগালে নির্বাচনে ২৯.৭ শতাংশ ভোট পড়ে। ৩১.৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল রোমানিয়ার নির্বাচনে। হংকংয়ে ভোটের হার ছিল ৩০ শতাংশ। তিনি বলেন, মনে রাখবেন, এই দেশগুলিতে ভোটে কোনও বিরোধী দল ছিল না।
তিনি আরও বলেন, ভারতের মতো বাংলাদেশেও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হয়। কিন্তু, বরাবরই বিএনপি ও জামায়াত একে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। তারা জনগণকে ভোটদানে নিরুৎসাহিত করে। কিন্তু, বাংলাদেশের জনগণ সেসব অপচেষ্টা রুখে দেয়।