রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানি বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে দেখা করে এই যুদ্ধে ক্রেমলিন সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনে বন্ধুত্ব রয়েছে।
শেষ আপডেট: 23 June 2025 17:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়াকে পাশে পেল ইরান। গত ১১ দিনের সংঘর্ষ পরিস্থিতিতে সোমবার ইরানের এটাই চরম প্রাপ্তি। এদিন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানি বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে দেখা করে এই যুদ্ধে ক্রেমলিন সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ইজরায়েলি বাহিনী এদিন যখন ইরানের বিভিন্ন ঘাঁটিতে বিমানহানা চালাচ্ছে, তখন মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে যান ইরানের বিদেশমন্ত্রী।
সূত্রে জানা গিয়েছে, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনে বন্ধুত্ব রয়েছে। সেই হিসেবে ইরানের শীর্ষ ধর্মগুরু আয়াতোল্লা খামেনেই দেশের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচিকে মস্কোয় দৌত্য করতে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলে পাঠিয়েছিলেন, পুতিন যাতে রাশিয়ার তরফ থেকে ইরানকে বেশি সাহায্য করেন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইসলামিক রিপাবলিক ইরানের উপর গত সপ্তাহ ধরে হানাদারি চালাচ্ছে আমেরিকা।
চলতি উত্তেজনার মধ্যে আমেরিকা ও ইজরায়েলি রাষ্ট্রপ্রধান ইরানের পতন ও সরকার বদলের দাবি তুলে চলেছেন। যা নিয়ে রাশিয়া খুবই উদ্বিগ্ন। কারণ খামেনেইয়ের পতন ঘটিয়ে সরকার বদল ঘটলে তা পশ্চিম এশিয়া, পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় ভয়ঙ্কর টালমাটাল অবস্থার সূচনা করবে। সে কারণে এদিন পুতিন স্পষ্ট করে আরাঘচিকে জানিয়ে দেন যে, ইরান এই দুর্দিনে রাশিয়াকে তাদের বন্ধুদেশের মধ্যে ধরে নিতে পারে।
ক্রেমলিন থেকে প্রকাশিত একটি শর্ট ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, অর্নেট রুমে ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসেছিলেন পুতিন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ ও উরি উশাকোভ, যিনি ওয়াশিংটনে কাজ করা প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত তথা বর্তমানে শীর্ষস্থানীয় পরামর্শদাতা। পুতিন বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরানে হামলা চালাতে ইজরায়েলকে উসকেছিল আমেরিকাই। এ ধরনের আগ্রাসনের কোনও ভিত্তি নেই এবং কোনও যৌক্তিকতা নেই। ইরানের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘকালের বন্ধুত্ব ও বিশ্বাস-আস্থার সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের দিক থেকে ইরানের মানুষের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রইল, জানান পুতিন।