আমেরিকার H-1B ভিসার বাড়তি কড়াকড়ির জবাবে চিন চালু করছে নতুন ‘K ভিসা’। প্রতিভাধর বিদেশিদের জন্য সহজ শর্তে পড়াশোনা, চাকরি ও ব্যবসার সুযোগ মিলবে এই ভিসায়।

শেষ আপডেট: 25 September 2025 12:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিভিন্ন দেশের প্রতিভাধর পেশাজীবীদের উচ্চশিক্ষা ও চাকরির জন্য স্বাগত জানাবে চিন (Chaina will invite more talent from different countries) । এ জন্য বিশেষ এক ধরনের ভিসা চালু করতে চলেছে শি জিনপিংয়ের সরকার (Chinese President Xi Jinping) । আগামী মাস থেকে চালু হতে যাওয়া এই ভিসাকে বলা হচ্ছে আমেরিকার এইচ-ওয়ান-বি'র (H1-B) পাল্টা। চিনে প্রবেশের এই বিশেষ ছাড়পত্রের নাম রাখা হয়েছে ‘কে ভিসা’ (K visa)। চিনে এখন ১২ ধরনের ভিসা চালু আছে। আগামী মাস থেকে তা বেড়ে হতে চলেছে ১৩ প্রকার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বহুচর্চিত এইচ-ওয়ান-বি ভিসার বার্ষিক ফি ধায্য করেছেন এক লাখ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮৮ লাখ টাকা। এই বিপুল টাকা ফি দিয়ে ভিসা করানো এবং নবীকরণ কঠিন হয়ে পড়বে ভারতীয়দের জন্য। ঘটনাচক্রে ১৯৯০-এর গোড়ায় চালু হওয়া এই ভিসায় আমেরিকায় গিয়েছে সবচেয়ে বেশি ভারতীয়রাই। দ্বিতীয়স্থানে আছে চিনের নাগরিকেরা। মূলত তথ্যপ্রযুক্তি, ফার্মাসিউটক্যাল, ম্যানেজম্যান্ট, চিকিৎসা গবেষণাক্ষেত্রে ভারতীয় ও চিনারা আছে। প্রায় ছয় লাখ ভারতীয় বর্তমানে এইচ-ওয়ান-বি ভিসা নিয়ে আমেরিকায় আছেন। নতুন ভিসা ফি চালুর পর তাঁদের অনেককেই দেশে ফিরে আসতে হবে। যে সব কোম্পানি তাঁদের আমেরিকা পাঠিয়েছে তারা ৮৮ লাখ টাকা ভিসা ফি দিয়ে সে দেশে রাখতে রাজি নয়।
মার্কিন এই ভিসা নিয়ে যখন চর্চা তুঙ্গে তখন চিন নিয়ে এল কে ভিসা, যা নিয়ে আমেরিকাতেও তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন পত্রপত্রিকায় লেখা হচ্ছে কে ভিসার বৈশিষ্ট। বহু মার্কিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় চিনের নয়া ভিসা নিয়ে উৎসাহ ব্যক্ত করে বলেছেন, আমাদের কাজের নয়া গন্তব্য তৈরি হল।
এই ভিসারও উদ্দেশ্য প্রতিভাবানদের তাদের দেশে আমন্ত্রণ জানানো। বেজিংয়ের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, চিনের বাকি ১২ ধরনের ভিসার চাইতে কে ভিসা সহজ শর্তে দেওয়া হবে। ভিসার ফি হবে আয়ত্বের মধ্যে।
চিনা সংবাদসংস্থা জিনহুয়া জানিয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুণিরা উচ্চশিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসার জন্য কে ভিসায় সে দেশে যেতে পারবেন। ভিসা পাওয়ার জন্য চাকরির নিয়োগপত্র দেখানোর প্রয়োজন হবে না। চাকরি খোঁজার জন্যও কে ভিসায় চিনে প্রবেশ করা যাবে। কেউ ব্যবসা করতে চাইলেও একই ভিসায় সেই সুযোগ পাবেন।
চিন কেন এমন উদার ভিসা নীতি নিল তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট শি’র নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে মনে করছে বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা এলে তারা কতটা জানে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে চিন পিছিয়ে আছে, সেটাই চিহ্নিত করা আরও সহজ হবে। সেই সঙ্গে বহির্বিশ্বে চিনের উন্নতি, প্রগতিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে। তাতে চিনের স্বাভাবিক মিত্র সংখ্যা বাড়বে। এই কৌশল বিবেচনায় রেখেই বেজিংয়ের বর্তমান নেতৃত্ব বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পিপলস ডিপ্লোম্যাসি বা জনসাধারণ কেন্দ্রিক যোগাযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।