সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর (USTR) একটি গ্রাফিক প্রকাশ করেছে, যেখানে ভারতের মানচিত্র স্পষ্ট ভাবে চিহ্নিত। সেই মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবেই দেখানো হয়েছে।

ট্রাম্প ও মোদী
শেষ আপডেট: 7 February 2026 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত–আমেরিকা (India America Trade) বাণিজ্য কাঠামোর আড়ালে কাশ্মীর প্রশ্নে স্পষ্ট বার্তা দিল ওয়াশিংটন (Washington)। জম্মু ও কাশ্মীর যে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এই বাস্তবতাকে কার্যত সরকারি নথিতেই স্বীকৃতি দিল আমেরিকা। আর তাতেই কূটনৈতিক অস্বস্তিতে পড়ল ইসলামাবাদ (Islamabad)।
সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর (USTR) একটি গ্রাফিক প্রকাশ করেছে, যেখানে ভারতের মানচিত্র স্পষ্ট ভাবে চিহ্নিত। সেই মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবেই দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা কাশ্মীরের অংশও ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই মানচিত্র প্রকাশের মাধ্যমে আমেরিকা কার্যত জানিয়ে দিল, ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রকেই তারা মান্যতা দেয় এবং পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত দাবিকে সমর্থন করে না। আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর ইস্যুতে এটি যে পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিকে আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির— যিনি নিজেকে এখন ‘ফিল্ড মার্শাল’ হিসেবে তুলে ধরছেন, তিনি একাধিক বার ওয়াশিংটনে গিয়ে দরবার করেছেন। তবে সেই তৎপরতা যে কাশ্মীর প্রশ্নে আমেরিকার অবস্থান বদলাতে পারেনি, তা এই মানচিত্রই স্পষ্ট করে দিল।
পাকিস্তানের অন্দরমহলে ক্ষমতার সমীকরণ বদলের ইঙ্গিতও মিলছে। সেনাবাহিনীর প্রভাব বাড়িয়ে আসিম মুনির নিজেকে কার্যত দেশের মূল ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন বলে কূটনৈতিক মহলের একাংশের মত। তবু পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার কৌশলগত আগ্রহ। বিশেষত বিরল খনিজ ও অস্ত্র ব্যবসা থাকলেও, তাতে ভারতের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে ছাড় দিতে নারাজ ওয়াশিংটন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর মধ্য দিয়ে আমেরিকা একটি বৃহত্তর বার্তা দিয়েছে। পাকিস্তান তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু ভারতের বিকল্প নেই তা বুঝিয়ে দিয়েছে। ভূ-রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা যে ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, এই অবস্থান তারই প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, এই মানচিত্রটি প্রকাশ করা হয়েছে ভারত–আমেরিকা নতুন বাণিজ্য কাঠামোর প্রেক্ষিতে। ওই গ্রাফিকে দেখানো হয়েছে, আমেরিকার বিভিন্ন পণ্যের উপর ভারত শুল্ক কমাবে বা প্রত্যাহার করবে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন গাছের বাদাম, লাল জোয়ার, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, ডিস্টিলার্স গ্রেন, পাশাপাশি আমেরিকার ওয়াইন ও স্পিরিটস।
অন্য দিকে, আমেরিকাও ভারতের পণ্যের উপর শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে।
সব মিলিয়ে, বাণিজ্যের আড়ালে কাশ্মীর প্রশ্নে যে কূটনৈতিক বার্তা দিল ওয়াশিংটন, তা শুধু দিল্লির জন্য স্বস্তিরই নয়, ইসলামাবাদের জন্য স্পষ্ট ও অস্বস্তিকর সতর্কবার্তাও বটে।