কাসিমের অভিযোগ, “৯২২ দিনের একাকী বন্দিদশা, রক্তপরীক্ষা পর্যন্ত করতে না দেওয়া এবং যথাযথ চিকিৎসায় অস্বীকার - এই সবকিছুর সরাসরি ফল এই শারীরিক অবনতি।”

শেষ আপডেট: 13 February 2026 09:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (Imran Khan)-এর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ছড়াল। জেলে বন্দি ইমরানের ছেলে দাবি করেছেন, দীর্ঘ একাকী বন্দিত্ব এবং চিকিৎসায় অবহেলার জেরে তাঁর বাবা প্রায় একচোখে অন্ধ হয়ে গিয়েছেন (Imran Khan health deteriorate in jail)।
ইমরানের ছেলে কাসিম খান (Kasim Khan) সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তাঁর বাবার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির “বেশিরভাগটাই চলে গেছে”। রিপোর্ট অনুযায়ী, এখন মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট রয়েছে (Imran Khan solitary confinement eyesight)।
কাসিমের অভিযোগ, “৯২২ দিনের একাকী বন্দিদশা, রক্তপরীক্ষা পর্যন্ত করতে না দেওয়া এবং যথাযথ চিকিৎসায় অস্বীকার - এই সবকিছুর সরাসরি ফল এই শারীরিক অবনতি।”
তিনি সরাসরি দায় চাপিয়েছেন পাকিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ও সামরিক নেতৃত্বের উপর (Pakistan Politics)। কাসিমের কথায়, “এই নিষ্ঠুরতার দায় সম্পূর্ণভাবে বর্তমান সরকার, সেনাপ্রধান এবং তাঁদের মদতদাতা ‘হাতের পুতুল’দের।” নাম না করলেও তাঁর ইঙ্গিত যে ছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির (Asim Munir) এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)-এর দিকে, তা বলাই বাহুল্য।
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। কাসিমের দাবি, “আমার বাবাকে একাকী বন্দিত্বে রাখার জন্য বিচারব্যবস্থাকেই বিকৃত ও প্রভাবিত করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবনতি তাঁদের নির্দেশেই, তাঁদের তত্ত্বাবধানেই ঘটছে।”
আদিয়ালা জেলে বন্দি
৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান ২০২৩ সালের ৫ অগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল (Adiala Jail)-এ বন্দি। একটি দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি কারাবন্দি।
প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা ইমরান অবশ্য বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ভিসা না-পাওয়ার অভিযোগ
কাসিম আরও জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর ভাই, দু’জনেই ব্রিটেনে থাকেন, বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য এখনও ভিসা পাননি। “আমার ভাই আর আমাকে এখনও ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। বাবার স্বাস্থ্য যতই খারাপ হোক, আমাদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ইতিহাস এই অন্যায়ের সাক্ষী থাকবে,” সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ক্ষোভ উগরে লেখেন তিনি।
তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইনি প্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক দেশগুলির কাছে হস্তক্ষেপের আবেদনও জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব হোন এবং দায়ীদের জবাবদিহির মুখে দাঁড় করান।”
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ
এদিকে, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি (Sohail Afridi)-ও ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, সরকারি মেডিক্যাল রিপোর্টেই স্বীকার করা হয়েছে যে ইমরানের ডান চোখে মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট। তবে তিনি রিপোর্টের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
“একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যদি এমন ব্যবহার করা যায়, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর মধ্যে বিদ্বেষমূলক মানসিকতার প্রমাণ রয়েছে,” মন্তব্য আফ্রিদির।
আদালতের নির্দেশ
এদিকে ইসলামাবাদ হাই কোর্ট (Islamabad High Court)-এর দুই বিচারপতির বেঞ্চ ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইমরানের বিস্তারিত মেডিক্যাল পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে। তাঁর জেলবন্দি পরিস্থিতি নিয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার পুনরায় শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে স্বাস্থ্য-ইস্যু
ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা এখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন কেন্দ্রবিন্দু।
পাকিস্তান তেহরিক-এ-ইনসাফ (Pakistan Tehreek-e-Insaf) (পিটিআই)-এর সমর্থকরা অভিযোগ তুলছেন রাজনৈতিক নিপীড়নের। অন্যদিকে সরকার বলছে, আইন মেনেই সব প্রক্রিয়া চলছে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে এই বিতর্ক কি দেশের রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলবে? আগামী কয়েকদিনে আদালতের নির্দেশ এবং সরকারি অবস্থান সেই উত্তরই দেবে।