এই ঘটনা ইরানের পরিকল্পিত ছিল কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই ব্যতিক্রমী ঘটনার ফলে তাঁদের সেন্সর বিভ্রান্ত হয়েছে, এবং সেটিই মূল ত্রুটি, এই কথাই মেনে নিয়েছে নেতানিয়াহুর সেনা। তবে সাইরেন না বাজার নেপথ্যে কী ছিল?

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 June 2025 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার ইজরায়েলের (Israel) হাইফা শহরে (Haifa) আছড়ে পড়েছিল ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Iran Missile)। কিন্তু কোনও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজেনি! কেন? সোমবার অবশেষে সেই তথ্য প্রকাশ্য এল।
ভুল স্বীকার করেছে ইজরায়েল সেনাবাহিনী তথা আইডিএফ (IDF)। তাঁদের তরফে জানান হয়েছে, র্যাডার একেবারেই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে চিহ্নিত করতে পারেনি। ফলে সময় মতো কোনও প্রতিরোধও করা সম্ভব হয়নি। রবিবার পর্যন্ত ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা বলেছিলেন, সাইরেনে প্রযুক্তিগত গোলযোগ হয়েছিল ঠিকই, তবে ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ হয়নি। এও বলা হয়েছিল, হাইফার বিস্ফোরণ সম্ভবত ইজরায়েলি ইন্টারসেপ্টরের অংশ। কিন্তু তা যে একেবারে ভুল ব্যাখ্যা ছিল, তা একদিনের মধ্যেই স্পষ্ট করে দিল আইডিএফ।
গোটা ঘটনা পর্যালোচনার পর আইডিএফ জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে র্যাডার কেবল ক্ষেপণাস্ত্রের মূল কাঠামো (Main Body) ট্র্যাক করছিল। মাঝপথেই বিস্ফোরক বোঝাই ওয়ারহেডটি আলাদা হয়ে যায়, আর সেটিই সরাসরি গিয়ে পড়ে হাইফায়। সেই ওয়ারহেডকে রাডার কোনওভাবেই ধরতে পারেনি।
এই ঘটনা ইরানের পরিকল্পিত ছিল কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই ব্যতিক্রমী ঘটনার ফলে তাঁদের সেন্সর বিভ্রান্ত হয়েছে, এবং সেটিই মূল ত্রুটি, এই কথাই মেনে নিয়েছে নেতানিয়াহুর সেনা। তবে সাইরেন না বাজার নেপথ্যে কী ছিল?
প্রাথমিক ব্যাখ্যায় সেনা জানায়, ইজরায়েলে সাইরেন অ্যালার্ম সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র বা তার টুকরোর উপস্থিতি নিশ্চিত হলেই বাজে। ইন্টারসেপ্টর নিজে থেকেই সাইরেন চালু করে না, যাতে অযথা আতঙ্ক না ছড়ায়। তাই যদি ইন্টারসেপ্টরের অংশে বিস্ফোরণ হয়, তবে সাইরেন বাজে না — এই যুক্তিতেই তখন বিষয়টিকে হালকা করে দেখেছিল আইডিএফ।
যদিও পরে জানা যায়, আসল কারণ ছিল র্যাডারের ‘টেকনিক্যাল ব্লাইন্ডনেস’। কোনও মানুষ ভুল করেনি, প্রযুক্তিই খেই হারিয়েছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের কাছে।
কীভাবে বাঁচলেন হাইফার বাসিন্দারা?
যদিও হাইফার জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছিল তবুও আশ্চর্যজনকভাবে বড় কোনও প্রাণহানি হয়নি। এক জন আহত হয়েছেন মাত্র। কারণ? আগেই দেশে জাতীয় স্তরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সতর্কতা জারি হয়েছিল। তার জেরে অনেকেই আগে থেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গিয়েছিলেন।