সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়, মার্কিন বাহিনী ইরানের পারমাণবিক পরিকাঠামোর উপর হামলার জন্য ভারতীয় আকাশপথ ব্যবহার করেছিল।
_0.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 23 June 2025 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে আমেরিকার সামরিক অভিযানের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বলা হচ্ছে, অভিযানে আমেরিকা ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করেছে। তবে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (PIB) জানিয়েছে, সেই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
রবিবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে PIB স্পষ্টভাবে জানায়, ‘এই দাবি ভুয়ো। অপারেশন মিডনাইট হ্যামার (Operation Midnight Hammer) চলাকালীন ভারতীয় আকাশপথ ব্যবহার করেনি আমেরিকা।’
সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়, মার্কিন বাহিনী ইরানের পারমাণবিক পরিকাঠামোর উপর হামলার জন্য ভারতীয় আকাশপথ ব্যবহার করেছিল। এই দাবি খারিজ করে PIB উল্লেখ করে, মার্কিন যৌথ বাহিনীর চিফ জেনারেল ড্যান কেইনের একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিষ্কার জানানো হয়েছে, বিমানগুলো অন্য পথেই গিয়েছিল।
ফ্যাক্ট চেক ইউনিট তার পোস্টে লিখেছে, ‘কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট দাবি করছে, অপারেশন মিডনাইট হ্যামার-এর সময় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভারতীয় আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালিয়েছে। এই দাবি ভুয়ো। মার্কিন বাহিনী ভারতীয় আকাশসীমা ব্যবহার করেনি। প্রেস ব্রিফিংয়ে জেনারেল ড্যান কেইন স্পষ্টভাবে অভিযানের রুট ব্যাখ্যা করেছেন।’
Several social media accounts have claimed that Indian Airspace was used by the United States to launch aircrafts against Iran during Operation #MidnightHammer #PIBFactCheck
❌ This claim is FAKE
❌Indian Airspace was NOT used by the United States during Operation… pic.twitter.com/x28NSkUzEh— PIB Fact Check (@PIBFactCheck) June 22, 2025
রবিবারের আগে ইরানের নাতানজ, ফোরদো এবং ইসফাহানের আন্ডারগ্রাউন্ড পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে ‘চরম নির্ভুল হামলা’ চালানোর পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘যদি ইরান শান্তির পথ না বেছে নেয়, তাহলে আরও বড় প্রতিশোধমূলক হামলা হবে।’
পেন্টাগনে প্রেস ব্রিফিংয়ে জেনারেল ড্যান কেইন জানান, ‘স্থানীয় সময় রাত ২:১০-এ (ভারতীয় সময় সকাল ৪:৪০ নাগাদ), ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্রে প্রথম GBU-57 MOP (Massive Ordnance Penetrator) বোমা ফেলা হয়। পরবর্তী ২৫ মিনিটে ১৪টি MOP বোমা ফেলা হয় মোট তিনটি পারমাণবিক লক্ষ্যবস্তুতে।’
তিনি আরও জানান, ‘ইসফাহানে হামলার সময় টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যাতে অপারেশনের গোটা সময় জুড়ে ‘চমকে দেওয়ার উপাদান’ বজায় থাকে।’
জেনারেল কেইনের বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো অপারেশন পরিচালনা করে US Central Command, যার নেতৃত্বে রয়েছেন জেনারেল এরিক কুরিলা।
এই অভিযানে বিভ্রান্তিমূলক কৌশলও ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী। বোমারু বিমানগুলো ইরানি আকাশসীমায় প্রবেশের সময় কিছু ডিকয় (ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত বিমানের মডেল) ও ৪র্থ ও ৫ম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানকে সামনের সারিতে পাঠানো হয়—শত্রু বাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে।
জেনারেল ড্যান কেইন জানান, ‘রাত বারোটা নাগাদ আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থেকে সাতটি B2 স্পিরিট বোমারু বিমানের একটি স্ট্রাইক প্যাকেজ রওনা দেয়। এর একটি অংশ পশ্চিমে, প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে যায়, ডিকয় হিসেবে। আর মূল স্ট্রাইক ফোর্স পূর্বদিকে যায়, কমিউনিকেশন প্রায় না রেখে। এই গোটা কৌশলের কথা জানতেন হাতে গোনা কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক।’
অন্যদিকে, ইরান এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। দেশটির পারমাণবিক সংস্থা AEOI জানিয়েছে, ‘এই বর্বরোচিত আগ্রাসন স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক চুক্তি, বিশেষ করে NPT (Non-Proliferation Treaty)-র লঙ্ঘন।’