মালয়েশিয়ার হজওয়ানি হেলমি এবং মার্কিন নাগরিক উইন্ডফিল্ড বিবার সংবাদ সংস্থাকে জানান, আটক থাকার সময় তাদের সঙ্গে পশুর মতো ব্যবহার করা হয়েছিল।
.jpeg.webp)
থুনবার্গ
শেষ আপডেট: 5 October 2025 17:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজায় সাহায্য নিয়ে যাওয়া একটি ফ্লোটিলায় অংশ নিয়ে আটক হওয়ার পর বিখ্যাত সমাজকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের ওপর অমানবিক আচরণের উঠল অভিযোগ। শনিবার তুরস্কে নির্বাসিত ১৩৭ জন কর্মী ইস্তানবুলে পৌঁছনোর পর একাধিক বিদেশি কর্মী জানান, গ্রেটাকে আটকের পর জোর করে ইজরায়েলের পতাকা গলায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তুরস্কের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, নির্বাসিতদের মধ্যে ৩৬ জন তুর্কি নাগরিক ছাড়াও ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, আলজেরিয়া, মরক্কো, ইতালি, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মৌরিতানিয়া, সুইজারল্যান্ড, তিউনিসিয়া ও জর্ডনের নাগরিক।়
মালয়েশিয়ার হজওয়ানি হেলমি এবং মার্কিন নাগরিক উইন্ডফিল্ড বিবার সংবাদ সংস্থাকে জানান, আটক থাকার সময় তাদের সঙ্গে পশুর মতো ব্যবহার করা হয়েছিল। হেলমির কথায়, 'গ্রেটা থুনবার্গকে ধাক্কা মেরে পতাকা পরিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের পরিষ্কার খাবার ও জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি, ওষুধও কেড়ে নিয়েছিল ওরা।'
ইতালির আঞ্চলিক কাউন্সিলর পাওলো রোমানো সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, 'আমাদের মুখ নীচে করে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করে ওইদিন। নড়লেই চলছিল মারধর। গালাগাল, অপমান আর শারীরিক নির্যাতন তো ছিলই।'
এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা সুইডিশ বিদেশ মন্ত্রকের এক ইমেলে দাবি করা হয়েছে, গ্রেটা ছাড়পোকার সংক্রমিত সেলে ছিলেন। পর্যাপ্ত জল-খাবার পাননি, এমনকি ডিহাইড্রেশন পর্যন্ত হয়, তাতেও কেউ এগিয়ে আসেনি। শরীরে র্যাশ ওঠে, ইমেলে আরও বলা হয়, তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শক্ত আসনে বসিয়ে রাখা হয়েছিল।
এক কর্মীর অভিযোগ, গ্রেটাকে চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে টানতে টানতে ওই সেলে নিয়ে যাওয়া হয়, চুমু খেতে বাধ্য় করা হয় ইজরায়েলের পতাকায়। ইজরায়েল অবশ্য সমস্ত অভিযোগকে 'সম্পূর্ণ মিথ্যে' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সেখানকার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, আটক কর্মীদের পর্যাপ্ত খাবার, জল ও আইনি সহায়তা দিয়ে সাহায্য করা হয়েছিল। এক্স-এ দেওয়া আলাদা পোস্টে ইজরায়েল আরও দাবি করে, কিছু কর্মী ইচ্ছে করেই নির্বাসন প্রক্রিয়ায় বাধা দিচ্ছিলেন। যদিও তার কোনও প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
ইতিমধ্যেই একটি ইতালীয় প্রতিনিধি দল, যাঁদের মধ্যে চার জন সাংসদও রয়েছেন, শুক্রবার রোমে ফিরে গিয়েছেন। ইতালির সাংসদ আর্তুরো স্কট্টোর কথায়, 'যাঁরা আইন মেনে চলছিলেন তাঁরা নৌকায় ছিলেন, আর যাঁরা বেআইনি কাজ করেছেন তাঁরা হলেন যাঁরা ওই নৌকাগুলো আটকেছেন।'
গত অগস্টের শেষে এই ফ্লোটিলা গাজায় রওনা দিয়েছিল। ২০০৭ সাল থেকে ইজরায়েলের নৌ অবরোধের প্রতিবাদে এটি ছিল একাধিক কর্মসূচির সর্বশেষ অধ্যায়। গত বছর হামাসের হামলার পর ইজরায়েল–হামাস যুদ্ধ আরও জটিল হয়ে ওঠে, আর সেই প্রেক্ষিতেই এই ঘটনার গুরুত্ব বেড়েছে।