ইজরায়েলি সেনা জানিয়েছে, গ্রেটা থুনবার্গসহ আটক সকলেই সুস্থ আছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।

ত্রাণের নৌকা।
শেষ আপডেট: 2 October 2025 09:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্যালেস্তাইনের গাজাতে প্রাণ পৌঁছে দিতে যাওয়া একটি নৌবহর আটক করেছে ইজরায়েল। বার্সিলোনা থেকে গত ২৮ অগস্ট রওনা হওয়া ওই নৌবহরে বিপুল ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪৪টি দেশের ৫০০ যাত্রী রয়েছেন তাতে। তালিকায় আছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ও বেলজিয়ামসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। এছাড়া আছেন আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক। তাদের অন্যতম সুইডিস অধিকার কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ।
গাজায় এ পর্যন্ত পাঠানো ত্রাণ সামগ্রির মধ্যে এটি বৃহত্তম আয়োজন। ওয়াকিবহাল মহলের খবর, জাহাজটি পৌঁছতে পারলে গাজায় খাবার, পানীয় জল এবং ওষুধের চাহিদা পূরণ করা যেত। নৌবহরটিতে মোট ৪০টি মালবাহী জাহাজ রয়েছে। সেগুলি ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করার পর থেকেই ইজরায়েলি সেনা থামানোর চেষ্টা করছিল। বুধবার গভীর রাতে গাজা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামে নৌবহরটি থামিয়ে দিয়েছে ইজরায়েল। তবে আটটি বাদে বাকিগুলি গাজার দিকে রওনা হয়েছে। ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে ৩২টি জাহাজ গাজায় পৌঁছে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক্স পোস্টে ইজরায়েলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামে নৌবহর কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে ইজরায়েলি সেনা জানিয়েছে, গ্রেটা থুনবার্গসহ আটক সকলেই সুস্থ আছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।

ইজরায়েলের বক্তব্য, ওই নৌবহরটির সঙ্গে প্যালেস্তাইনের জঙ্গি সংগঠন হামাসের যোগাযোগ রয়েছে। সেই কারণেই তারা নৌবহরটি আটকে রেখেছে। অন্যদিকে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা বলেছে ইসরায়লের এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অমানবিক। তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ত্রানবাহী জাহাজ আটকাতে পারে না।
আন্তর্জাতিক সমস্ত নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে প্যালেস্টাইনের উপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইজরায়েল। এখনও পর্যন্ত ৬৬ হাজার প্যালেস্তেনিয়কে তারা হত্যা করেছে। বিগত মাস ছয়েক হল সেখানে ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ আটকে দিয়ে প্যালেস্টাইনের মানুষকে অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে ইসরায়েল। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংঘাত এড়াতেই অধিকার কর্মীরা বিশ্বব্যাপী প্রচার চালিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে ইজরায়েলে প্রাণ নিয়ে যাচ্ছিলেন। অধিকার তথা পরিবেশ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে এর আগেও একবার গ্রেপ্তার করে ইসরায়েল বাহিনী।