১৯৯০ সাল থেকে বিশ্বের বড় হ্রদগুলোর অর্ধেকের জলস্তর কমেছে। বহু অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জল ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। গত ৫০ বছরে ইউরোপের বহু জলাভূমি হারিয়ে গেছে এবং ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে হিমবাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে।

ভারতে তীব্র হচ্ছে জলসঙ্কট
শেষ আপডেট: 25 January 2026 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে জলের সঙ্কট (Global Water Crisis) ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা গেছে, বিশ্বের ১০০টি বড় শহরের অর্ধেকই তীব্র জলাভাবের সমস্যায় ভুগছে। নদী শুকিয়ে যাওয়া, ভূগর্ভস্থ জলের স্তর কমে যাওয়া এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জলের চাহিদা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। জলাভাব এখন আর দূরবর্তী কোনও পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি সরাসরি শহুরে জরুরি অবস্থায় পরিণত হচ্ছে।
৩৯টি শহরে জলসঙ্কট ‘অত্যন্ত গুরুতর’
রিপোর্ট জানাচ্ছে, বিশ্বের বড় শহরগুলির মধ্যে অন্তত ৩৯টি শহরে জলের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। এই শহরগুলোর পানীয়জল সরবরাহ, নিত্যজীবন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সবই বিপদের মুখে।
দিল্লি চতুর্থ, ভারতীয় শহরগুলোর ঝুঁকি
ভারত এই সঙ্কটের অন্যতম বড় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ (India water shortage)। বিশ্বের সবচেয়ে ভুক্তভোগী শহরের তালিকায় দিল্লি (water shortage in Delhi) চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এছাড়া কলকাতা (water shortage in Kolkata) (৯), মুম্বই (১২), বেঙ্গালুরু (২৪) এবং চেন্নাই (২৯) জলাভাবের সমস্যায় ভুগছে। হায়দরাবাদ, আমেদাবাদ, সুরাট ও পুনেতেও কয়েক বছর ধরে নিয়মিত জল সঙ্কট দেখা যাচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
‘ডে জিরো’র দোরগোড়ায় চেন্নাই
রিপোর্ট অনুযায়ী, চেন্নাই খুব দ্রুত ‘ডে জিরো’-র (Day Zero cities) দিকে এগোচ্ছে- যে অবস্থায় শহরবাসীর জন্য কোনও জলই থাকবে না। অতীতে চেন্নাই এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে, যখন মানুষকে ট্যাঙ্কার ও জরুরি জলের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। তেহরানও টানা ছ'বছর ধরে খরার মুখে এবং প্রায় ‘ডে জিরো’ অবস্থায় পৌঁছে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন সঙ্কট দেখেছে।
বিশ্বব্যাপী জলসঙ্কট
জলসঙ্কট শুধু ভারতেই নয়, আফগানিস্তানের কাবুল শহর জলশূন্য হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। মেক্সিকো সিটি প্রতি বছর প্রায় ২০ ইঞ্চি ডুবে যাচ্ছে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলনের কারণে। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে কলোরাডো নদীর জল নিয়ে রাজ্যগুলোর মধ্যে বিরোধ চলছে। বেজিং, নিউইয়র্ক এবং রিও ডি জেনেইরোর মতো বড় শহরও উচ্চসঙ্কট রয়েছে।
৪০০ কোটি মানুষ বিপন্ন
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ বছরে অন্তত এক মাস তীব্র জল সঙ্কটের মুখোমুখি হন (population affected by water crisis)। নদী-হ্রদ শুকিয়ে যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ জল কমছে এবং জলাভূমি শুকিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ভূমিধস, মরু বিস্তার ও অন্যান্য পরিবেশগত বিপর্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১৯৯০ সাল থেকে বিশ্বের বড় হ্রদগুলোর অর্ধেকের জলস্তর কমেছে। বহু অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জল ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। গত ৫০ বছরে ইউরোপের বহু জলাভূমি হারিয়ে গেছে এবং ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে হিমবাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, বিশ্বের মিঠে জলের ভাণ্ডার দ্রুত সংকুচিত হওয়ায় ভবিষ্যত আরও উদ্বেগজনক হতে পারে।