মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের বার্তার ‘বিষয়বস্তু’ সংরক্ষণ করে এবং সংস্থার কর্মীরা সেগুলি দেখতে সক্ষম। অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ভারত, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যবহারকারীরা এই মামলায় যুক্ত।
_0.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 25 January 2026 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াটসঅ্যাপ (Whatsapp) ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক মাথা তুলল। এক আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী মেটার (Meta Platforms, Inc.) বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ—হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড’ বলে যে দাবি করা হয়, বাস্তবে তা বিভ্রান্তিকর। মামলায় বলা হয়েছে, সংস্থা ও তার সহযোগী হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) নাকি ব্যবহারকারীদের তথাকথিত ‘ব্যক্তিগত’ বার্তা সংরক্ষণ করে, বিশ্লেষণ করে এবং প্রয়োজনে সেগুলিতে প্রবেশাধিকারও পায়।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর এক ফেডারেল জেলা আদালতে দায়ের হওয়া এই মামলায় ব্লুমবার্গের (Bloomberg) প্রতিবেদনের উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারকারীদের আশ্বস্ত করে এসেছে যে ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ থাকায় প্রেরক ও গ্রাহক ছাড়া কেউ—এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ বা মেটাও—বার্তা পড়তে পারে না। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে পরিষেবাটি এভাবে কাজ করে না।
কী প্রতিশ্রুতি দেয় হোয়াটসঅ্যাপ?
অ্যাপের ভিতরেই হোয়াটসঅ্যাপ জানায়—“এই চ্যাটে থাকা মানুষজন ছাড়া আর কেউ বার্তা পড়তে, শুনতে বা শেয়ার করতে পারে না।” এই নোট প্রতিটি চ্যাটের শুরুতেই দেখা যায়। বাদীপক্ষের মতে, এই প্রতিশ্রুতি ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করছে।
মামলার মূল অভিযোগ
মামলায় বলা হয়েছে, মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের বার্তার ‘বিষয়বস্তু’ সংরক্ষণ করে এবং সংস্থার কর্মীরা সেগুলি দেখতে সক্ষম। অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ভারত, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যবহারকারীরা এই মামলায় যুক্ত। অভিযোগে ‘হুইসেলব্লোয়ার’দের সহায়তায় এসব তথ্য সামনে এসেছে বলেও দাবি করা হয়েছে, যদিও তাঁদের পরিচয় বা ভূমিকা স্পষ্ট করা হয়নি।
মেটার পাল্টা বক্তব্য
অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে মেটা (Meta)। সংস্থার মুখপাত্র জানিয়েছেন, মামলা ‘ভিত্তিহীন’ এবং তারা আইনি লড়াই জোরদারভাবে চালাবে। মেটার দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ গত এক দশক ধরে সিগনাল প্রোটোকল (Signal Protocol) ব্যবহার করে, তা এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড-এ (end-to-end encryption) নিয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই। মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোনের কথায়, “হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা এনক্রিপ্টেড নয়—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অবাস্তব।”
আদালতের কাছে মামলাটিকে ‘ক্লাস অ্যাকশন’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তা হলে বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী এই আইনি লড়াইয়ের আওতায় আসতে পারেন।
এই মামলাকে ঘিরে ফের পুরনো প্রশ্ন নতুন করে উঠছে— তা হল ডিজিটাল যুগে ‘গোপনীয়তা’ আসলে কতটা সুরক্ষিত?