হরমুজ প্রণালী বন্ধের পর জ্বালানি সঙ্কটে কাঁপছে বিশ্ব। কর ছাড়, ভর্তুকি, বিকল্প জ্বালানি—বিভিন্ন দেশ কীভাবে নাগরিকদের সুরক্ষা দিচ্ছে, একনজরে দেখুন।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 4 April 2026 12:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাত ঘিরে জ্বালানি বাজারে তীব্র সমস্যা (Global Fuel Crisis) তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার পর বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম হু হু (Global Economy) করে বাড়তে শুরু করেছে। ফলে ভারতের মতো যেসব দেশ বিপুল পরিমাণ ক্রুড অয়েল আমদানির উপর নির্ভরশীল, তারা নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে।
শুধু ভারতই নয়, বিশ্বের একাধিক দেশ এই জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাব সামাল দিতে নানা ধরনের পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে। কোথাও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে, কোথাও বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকেছে সরকার, আবার কোথাও বিদ্যুৎ উৎপাদনের নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। নাগরিকদের উপর সরাসরি প্রভাব কমাতে বিভিন্ন দেশ কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার একটি ঝলক নিচে তুলে ধরা হল।
দক্ষিণ কোরিয়া: জ্বালানি ঘাটতি সামাল দিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপর থাকা সীমাবদ্ধতা শিথিল করেছে। পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনও ঘাটতি না থাকে।
চিন: পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একই সঙ্গে জরুরি মজুত থেকে সার সরবরাহ করে অভ্যন্তরীণ বাজারকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে।
অস্ট্রেলিয়া: ঘরোয়া বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভ্যন্তরীণ মজুত থেকে পেট্রল ও ডিজেল বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জাপান: এক বছরের জন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার বাড়াতে নিয়ম শিথিল করেছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া থেকে অতিরিক্ত এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU): বিদ্যুৎ কর ও গ্রিড ফি কমানো হয়েছে। সেই সঙ্গে নাগরিকদের স্বস্তি দিতে রাষ্ট্রীয় সহায়তার ঘোষণাও করা হয়েছে।
বাংলাদেশ: জ্বালানি ও এলএনজি আমদানির জন্য বিদেশ থেকে অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ভারতের কাছ থেকে ডিজেল আমদানি করা হয়েছে।
আর্জেন্টিনা: তরল জ্বালানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের উপর নির্ধারিত কর আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, যাতে বাজারে চাপ কমে।
মালয়েশিয়া: পেট্রলে ভর্তুকি বাড়ানো হয়েছে এবং সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া: কয়লা উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ১ জুলাই থেকে বি-৫০ বায়োডিজেল (৫০ শতাংশ পাম অয়েল নির্ভর জ্বালানি) চালু করা হয়েছে।
ভিয়েতনাম: নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পূর্ণ ইথানল-মিশ্রিত গ্যাসোলিন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা: এক মাসের জন্য জ্বালানি লেভি কমানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ কমে।
গ্রিস: এপ্রিল ও মে মাসে জ্বালানি ও সারের উপর ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ফেরি টিকিটেও ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে।
ব্রাজিল: ডিজেল আমদানিতে রাজ্যগুলিকে ভর্তুকি দেওয়ার নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডিজেলের উপর কেন্দ্রীয় কর বাতিল করা হয়েছে এবং তেল রপ্তানির উপর ১২ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সঙ্কটের এই কঠিন সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের অর্থনীতি ও নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত বিকল্প পথ খুঁজে নিচ্ছে। কোথাও ভর্তুকি, কোথাও কর ছাড়, কোথাও আবার বিকল্প জ্বালানি, বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।