প্রকাশিত ছবিতে কালো রঙের জামা, কালো টুপি ও সানগ্লাস পরিহিত এক ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে। তাঁর কাঁধে ঝোলানো ছিল কালো ব্যাগ। এই পোশাক ও চেহারার সূত্রেই তাঁকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে FBI।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 12 September 2025 09:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার তরুণ রিপাবলিকান মুখ চার্লি কার্কের (Charlie Kirk Death) হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য আরও বাড়ল। বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) প্রকাশ্যে আনা হল সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির ছবি। তাঁকেই এখন পর্যন্ত ‘পারসন অফ ইন্টারেস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (FBI)। সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, ছবিতে থাকা ওই ব্যক্তিকে চিনে থাকলে যেন দ্রুত তথ্য জানানো হয় তদন্তকারীদের (FBI releases first photo of 'person)।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে উটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটির সোরেনসেন সেন্টারে। অ্যারিজোনা-ভিত্তিক তাঁর রাজনৈতিক তরুণ সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-এর আয়োজিত এক আলোচনাসভায় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন কার্ক। তখনই হঠাৎই ছাদ থেকে এক রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। আতঙ্কে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় উপস্থিত জনতা।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল সংলগ্ন একটি ছাদে বসানো ছিল হাই-পাওয়ারড বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল। সেটিই ব্যবহৃত হয়েছে এই হামলায়। গুলি ছোঁড়ার পর আততায়ীকে ছাদ থেকে নেমে পাশের আবাসিক এলাকায় পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। প্রকাশিত ছবিতে কালো রঙের জামা, কালো টুপি ও সানগ্লাস পরিহিত এক ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে। তাঁর কাঁধে ঝোলানো ছিল কালো ব্যাগ। এই পোশাক ও চেহারার সূত্রেই তাঁকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে FBI।
চার্লি কার্ক ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। হত্যাকাণ্ডের পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, কার্ককে মরণোত্তর প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম দেওয়া হবে। উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স ও তাঁর স্ত্রী উষা ভ্যান্স ইতিমধ্যেই কার্কের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে উটাহ পৌঁছেছেন।
কার্ক হত্যাকাণ্ডকে ‘রাজনৈতিক হত্যা’ বলে অভিহিত করছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ঘটনার ভয়াবহ ভিডিও। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, এই হত্যাকাণ্ড শুধু একজন নেতার মৃত্যুই নয়, বরং আমেরিকার বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজনের নগ্ন রূপও তুলে ধরল।
তদন্তে নেমে FBI জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আঙুলের ছাপ, রাইফেল ও প্রকাশিত ছবি ঘিরেই জোরদার অনুসন্ধান চলছে। কে এই রহস্যময় ব্যক্তি, কেনই বা এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটালেন—শীঘ্রই তার উত্তর মিলবে বলে আশাবাদী তদন্তকারীরা।