দাবি, জিয়ান চিনা কমিউনিস্ট পার্টির অনুগামী। চিনে এই ছত্রাক নিয়ে গবেষণার জন্য চিনা সরকারের পক্ষ থেকে মোটা আর্থিক সহায়তাও পেয়েছেন।

এইভাবেই চলছিল বিপজ্জনক ছত্রাক চোরাচালান
শেষ আপডেট: 4 June 2025 11:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিপজ্জনক ছত্রাক চোরাচালানের অভিযোগে আমেরিকায় দুই চিনা গবেষককে গ্রেফতার করেছে এফবিআই। এজেন্সির প্রধান কাশ প্যাটেল নিজেই মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্যাটেল X (সাবেক টুইটার) পোস্টে লেখেন, ‘একটি বিপজ্জনক বায়ো-প্যাথোজেন (ছত্রাক) আমেরিকায় পাচার করার অভিযোগে এক চিনা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে এফবিআই।’
এই বিপজ্জনক ছত্রাকটির নাম Fusarium graminearum। এটি মূলত চাষ-আবাদের ক্ষেত্রে ‘জৈব-সন্ত্রাস’ ছড়ানোর কাজে লাগানো হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্যাটেল।
গ্রেফতার ওই গবেষক ইউনকিং জিয়ান, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। তিনি এই ছত্রাকটি নিয়ে গবেষণার জন্য আমেরিকায় পাচার করেন বলে অভিযোগ।
প্যাটেল ব্যাখ্যা করেন, ‘এই ছত্রাক গম, বার্লি, ভুট্টা ও ধান গাছকে সংক্রমিত করে 'হেড ব্লাইট' নামের রোগ সৃষ্টি করে। এর প্রভাবে পশুর স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানুষের ওপরও গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বজুড়ে কৃষিতে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির জন্য এই ছত্রাকই দায়ী।’
প্যাটেলের দাবি, জিয়ান চিনা কমিউনিস্ট পার্টির অনুগামী। চিনে এই ছত্রাক নিয়ে গবেষণার জন্য চিনা সরকারের পক্ষ থেকে মোটা আর্থিক সহায়তাও পেয়েছেন।
আরও বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে তাঁর প্রেমিক জুনিয়ং লিউ-র নামেও। লিউ নিজেও একজন গবেষক এবং চিনের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ছত্রাক নিয়ে কাজ করছেন। তিনি প্রথমে মিথ্যে বললেও পরে স্বীকার করেন যে, তিনিও ডেট্রয়েট বিমানবন্দরের মাধ্যমে Fusarium graminearum আমেরিকায় পাচার করেছিলেন। তাঁরও উদ্দেশ্য ছিল মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা চালানো।
ভিসা জালিয়াতি সহ দু’জনের বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
কাশ বলেন, ‘এই ঘটনা বড় সতর্কবার্তা- চিনা কমিউনিস্ট পার্টি আমেরিকায় গোপনে গবেষক ও অপারেটিভ ঢোকাচ্ছে যারা খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকির সমান।’ তবে FBI সতর্ক রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আবার উত্তপ্ত। ট্রাম্প বলেছিলেন, চিন জেনেভা বৈঠকে নির্ধারিত ট্যারিফ রোলব্যাকের সম্মতির পরেও ‘বেইমানি’ করেছে। সোমবার চিনের বাণিজ্য মন্ত্রক ট্রাম্পের দাবি ‘পুরোপুরি ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে।
চিন পাল্টা অভিযোগে জানায়, আমেরিকা একতরফাভাবে এআই চিপ এক্সপোর্ট, চিপ ডিজাইন সফটওয়্যার ও ছাত্র ভিসা নিয়েও নতুন বিধিনিষেধ চাপিয়ে দিচ্ছে।
ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ব্রিফিংয়ে জানান, তাড়াতাড়ি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন।