গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবিতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মধ্যেই সেখানে ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন শুরু। ডেনমার্কের পাশে দাঁড়াল একাধিক ইউরোপীয় দেশ।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 16 January 2026 08:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রিনল্যান্ড দখলকে ঘিরে ফের আগ্রাসী অবস্থানে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি সামনে রেখে তিনি আবারও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবি তুলেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর প্রস্তাবে সাড়া না দিলে গ্রিনল্যান্ডকে বড় সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে বলেও প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
এই হুঁশিয়ারির পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় গ্রিনল্যান্ডে সেনা সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা করেছে ডেনমার্ক। ডেনমার্কের এই সিদ্ধান্তে ইউরোপের একাধিক দেশ প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে। তার পরই ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠানো শুরু হয়। ট্রাম্পের হুমকির আবহেই বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে বিদেশি সেনা পৌঁছতে শুরু করেছে।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রসঙ্গ উঠতেই আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়, যা বৃহস্পতিবার আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের আধিকারিকদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পরিকল্পনা করেছে। ওই আলোচনাকে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের লক্ষ্যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ‘অধিগ্রহণ চুক্তি সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত আলোচনা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেনমার্কের বিদেশমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেছেন, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর উচিত আমেরিকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া। একই সঙ্গে ডেনমার্কের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখাগুলিকেও সম্মান করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা শুরুর আগেই গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল ডেনমার্ক। এর পরই ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন-সহ একাধিক ইউরোপীয় দেশ সেখানে নিজেদের সেনা পাঠাতে শুরু করে। এই দেশগুলির বক্তব্য, সেনা পাঠানোর উদ্দেশ্য ইউরোপীয় দেশগুলির ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে জানানো, গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার দখল প্রয়োজনীয় নয়। কারণ রাশিয়া ও চিনের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের মধ্যেও ন্যাটো (NATO) একযোগে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা করতে সক্ষম।
তবে এই ঘটনাপ্রবাহের পরেও নিজেদের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে আমেরিকান প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত বা লক্ষ্য থেকে একচুলও সরে আসা হয়নি। তাঁর কথায়, “প্রেসিডেন্ট তাঁর অগ্রাধিকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি চান আমেরিকা গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করুক, কারণ তাঁর মতে এটি আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত।”