জাপান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ফলে প্রতিটি মাঝারি বা বড় ধাক্কাই মানুষকে মনে করিয়ে দেয় ২০১১ সালের ভয়ানক বিপর্যয়ের কথা।
.jpg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 January 2026 08:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাপানের শিমানে প্রিফেকচারে মঙ্গলবার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে (Japan earthquake), যার মাত্রা নিয়ে শুরুতেই কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। প্রথমে জাপান আবহাওয়া দফতর (JMA) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.৩ বলে জানালেও পরে তা কমিয়ে ৪.৫ করা হয়। অপরদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS-এর রিয়েল-টাইম ডেটায় এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.৮ বলে প্রদর্শিত হয়। তবে কম্পন শক্তিশালী হলেও কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
JMA জানায়, ভূমিকম্পটির (Japan earthquake) কেন্দ্রস্থল ছিল শিমানে প্রিফেকচারের পূর্বাংশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জাপানের ১ থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প-তীব্রতা স্কেলে এই কম্পন শিমানে (Shimane earthquake) এলাকায় ‘আপার-৫’–এ নথিভুক্ত হয়েছে, যেটিকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ধাক্কা হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবু এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
২০১১ সালের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়ায় জাপানকে
জাপান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ফলে প্রতিটি মাঝারি বা বড় ধাক্কাই মানুষকে মনে করিয়ে দেয় ২০১১ সালের ভয়ানক বিপর্যয়ের কথা। সেদিন ৯.০ মাত্রার এক শক্তিশালী সমুদ্রতলের ভূমিকম্প বিশাল সুনামি সৃষ্টি করেছিল, যাতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ মারা যায় কিংবা নিখোঁজ হয়। সেই ট্র্যাজেডির পর দেশে ভূমিকম্প-সতর্কতা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
‘মেগাকোয়েক’-এর আতঙ্ক
২০২৪ সালের আগস্টে JMA প্রথমবারের মতো জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দক্ষিণ উপকূলজুড়ে এক বিশেষ সতর্কতা জারি করেছিল। নানকাই ট্রফ নামে পরিচিত ৮০০ কিলোমিটার লম্বা সমুদ্রগর্ভের খাদ বরাবর বড় মাত্রার ভূমিকম্প বা ‘মেগাকোয়েক’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।
এই ট্রফ অঞ্চলেই ফিলিপাইনের সমুদ্র প্লেট ধীরে ধীরে জাপানের স্থলভাগের নীচে ঢুকে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প হলে তা ভয়াবহ সুনামি সৃষ্টি করতে পারে।
জাপান সরকার অনুমান করেছে, সম্ভাব্য নানকাই ট্রফ ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ২ লক্ষ ৯৮ হাজার মানুষের মৃত্যু এবং ২ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
‘রিং অব ফায়ার’-এ থাকা দেশ
জাপান চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যা প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে থাকা ‘রিং অব ফায়ার’-এর অংশ। ফলে দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ১,৫০০ ছোট-বড় ভূমিকম্প হয়ে থাকে। বেশিরভাগই তেমন ক্ষতি করে না, তবে কম্পনের শক্তি, কেন্দ্রের গভীরতা এবং বসতি থেকে দূরত্ব- সবকিছুর ওপর নির্ভর করে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বদলে যেতে পারে।
শিমানে অঞ্চলের এই ভূমিকম্পে বড় বিপদ না ঘটলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, জাপানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি (earthquake alert Japan) ভবিষ্যতেও বহাল থাকবে।