ডোনাল্ড-মেলানিয়ার আদরের ছোটটি ব্যারন ট্রাম্প (Barron Trump) এতদিন মূলত পরিচিত ছিলেন তাঁর অস্বাভাবিক উচ্চতা (height), রহস্যময় ব্যক্তিত্ব এবং ক্রিপ্টো সাম্রাজ্য (crypto empire) নিয়ে।

ডোনাল্ড-মেলানিয়ার আদরের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্প। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 22 January 2026 13:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President) ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ছোট ছেলে দেশের মানুষের কাছে, এমনকী ব্রিটিশদের কাছেও ‘হিরো’র মর্যাদা পাচ্ছেন। ডোনাল্ড-মেলানিয়ার আদরের ছোটটি ব্যারন ট্রাম্প (Barron Trump) এতদিন মূলত পরিচিত ছিলেন তাঁর অস্বাভাবিক উচ্চতা (height), রহস্যময় ব্যক্তিত্ব এবং ক্রিপ্টো সাম্রাজ্য (crypto empire) নিয়ে। কিন্তু এবার ব্রিটেনের একটি আদালতের (UK Court) শুনানিতে উঠে এল সম্পূর্ণ এক ভিন্ন ছবি। যেখানে ব্যারন কার্যত এক তরুণীর প্রাণ বাঁচিয়ে ‘নায়ক’ হয়ে উঠেছেন।
লন্ডনের স্নেয়ারসব্রুক ক্রাউন কোর্টে (Snaresbrook Crown Court) চলা একটি মামলার শুনানিতে এক তরুণী জানান, তিনি যখন তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকের (ex-boyfriend) হাতে হামলার (violent attack) শিকার হচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে আতঙ্কে ফেসটাইম (FaceTime) করে ব্যারন ট্রাম্পকে ফোন করেন। নিউ ইয়র্ক পোস্ট (New York Post)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবক ওই তরুণীর সঙ্গে ব্যারনের বন্ধুত্বে ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁর উপর চড়াও হয় এবং হামলাটি বাজে দিকে মোড় নেয়।
ঘটনার সময় ব্যারন ট্রাম্প হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (United States) ছিলেন। কিন্তু ফোনের ওপাশ থেকে মেয়েটির চিৎকার ও কান্না শুনেই তিনি পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে যান এবং কোনও সময় নষ্ট না করে জরুরি পরিষেবায় (emergency services) ফোন করেন। আদালতে তরুণী জানান, সেই ফেসটাইম কলটি তাঁর কাছে ঈশ্বরের
আশীর্বাদের মতো ছিল (sign from God)। ব্যারন পুলিশ অপারেটরকে স্পষ্টভাবে বলেন, একটি মেয়েকে আমি চিনি, তাকে মারধর করা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মেয়েটির ঠিকানাও দিয়ে দেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
পুলিশের বডিক্যাম ফুটেজে (bodycam footage) দেখা যায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে অফিসাররা তরুণীর কাছে জানতে চান, কে তাঁদের ফোন করেছিল। তরুণী তখন জানান, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলের বন্ধু। পুলিশ তাঁকে ব্যারনকে আবার ফোন করতে বলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য। ফোনে তরুণী জিজ্ঞেস করেন, হ্যালো ব্যারন, তুমি কি পুলিশে ফোন করেছিলে? ব্যারনের উত্তর আসে, আমি কাউকে দিয়ে পুলিশে ফোন করিয়েছি। ও আমাকে ফোন করেছিল, আমি ভেবেছিলাম সাধারণ একটা কথা হবে। তিনি আরও বলেন, আমি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হুমকি দিইনি, কারণ তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, পুরো ফেসটাইম কলটি ছিল মাত্র ১৫ সেকেন্ডের। ব্যারন কেবল ছাদের দিকটাই দেখতে পেয়েছিলেন, কিন্তু মেয়েটির চিৎকার ও ভয়ার্ত কণ্ঠস্বরই তাঁকে বুঝিয়ে দেয় পরিস্থিতি কতটা বিপজ্জনক। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্তে কার্যত মেয়েটির প্রাণরক্ষা হয়েছে।
এই ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ব্যারন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জীবনও। ব্যারনের উচ্চতা ২.০৬ মিটার, অর্থাৎ প্রায় ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি, যা তাঁকে প্রায় সব অনুষ্ঠানে আলাদা করে চোখে পড়ার মতো করে তোলে। তবে উচ্চতার বাইরেও তাঁর পরিচয় এখন ক্রিপ্টো দুনিয়ার এক বিস্ময় প্রতিভা হিসেবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি (cryptocurrency) সম্পর্কে তাঁর আগ্রহের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রয়েছে ব্যারনের। ২০২৪ সালে ব্যারন তাঁর বাবা ও দুই দাদার সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল (World Liberty Financial), যা ফোর্বস (Forbes)-এর হিসাব অনুযায়ী ট্রাম্প পরিবারের সম্পদে যোগ করেছে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার। ব্যারনের অংশ আনুমানিক ১০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১,৩৭৪ কোটি টাকা।
এর পাশাপাশি ব্যারনের কাছে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ‘লকড টোকেন’ (locked tokens), যা ভবিষ্যতে ট্রেডেবল হলে তাঁর মোট সম্পত্তি আরও প্রায় ৫২৫ মিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদ প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬,৪১১ কোটি। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্ন স্কুল অফ বিজনেসে (NYU Stern School of Business) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র (sophomore)। এত অল্প বয়সে বিপুল সম্পদ ও প্রভাবের মালিক হওয়া সত্ত্বেও এই ঘটনাই দেখিয়ে দিল, ব্যারন ট্রাম্পের পরিচয় শুধু ট্রাম্প পরিবারের উত্তরাধিকারী হিসেবেই নয়, বরং বাস্তব জীবনেও একজন নায়ক হিসেবে।