তবে এই দাবির বেশিরভাগই ভারতের সরকারি অবস্থানের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত। মে মাস থেকেই ট্রাম্প অন্তত ৬০ বারেরও বেশি বলেছেন যে তিনি ভারত–পাকিস্তানের উত্তেজনা থামিয়েছেন, কিন্তু দিল্লি বারবার জানিয়েছে, এই বিষয়ে মার্কিন মধ্যস্থতার কোনও ভূমিকা ছিল না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 20 November 2025 13:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত–পাকিস্তানের সম্ভাব্য যুদ্ধ (India-Pakistan Conflict) নাকি ৩৫০ শতাংশ শুল্কের (350% Tariff) হুমকিতে থেমে গিয়েছিল! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আবারও একবার বিতর্কিত দাবি করলেন। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমানের উপস্থিতিতে ওয়াশিংটনে আয়োজিত ইউএস–সৌদি ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে বুধবার এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশকে জানিয়েছিলেন, “লড়াই করতে চাইলে করুন, কিন্তু আমি ৩৫০% শুল্ক বসিয়ে (Tariff) দেব। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব বাণিজ্য শেষ।” তাঁর দাবি, এই হুমকি শুনেই দিল্লি (New Delhi) ও ইসলামাবাদ (Islamabad) দু’পক্ষই তাঁকে অনুরোধ করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে। ট্রাম্পের কথায়, “আমি বললাম - যদি যুদ্ধ থামাও, তাহলে আমরা ভালভাবে বাণিজ্য চুক্তি করব।”
মঞ্চে বক্তৃতা দিতে গিয়েই ট্রাম্প জানান, কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এত কঠোর সিদ্ধান্ত নিত না। দাবি করেন, তিনি শুল্ক ব্যবহার করে বহু যুদ্ধ থামিয়েছেন। আটটির মধ্যে পাঁচটি কেবল অর্থনীতি ও বাণিজ্যনীতির জেরে মিটেছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Pakistan PM Shehbaz Sharif) নাকি তাঁকে ফোন করে লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।
এরপরই ট্রাম্প দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও (PM Narendra Modi) তাঁকে ফোন করেছিলেন। ট্রাম্পের বয়ানে, “মোদীজি বললেন - ‘We’re done’। আমি জিজ্ঞেস করলাম - ‘What do you mean?’ তিনি বললেন, ‘We’re not going to go to war.’ তারপর আমি বললাম, ভাল। তাহলে চুক্তি করা যাক।”
তবে এই দাবির বেশিরভাগই ভারতের সরকারি অবস্থানের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত। মে মাস থেকেই ট্রাম্প অন্তত ৬০ বারেরও বেশি বলেছেন যে তিনি ভারত–পাকিস্তানের উত্তেজনা থামিয়েছেন, কিন্তু দিল্লি বারবার জানিয়েছে, এই বিষয়ে মার্কিন মধ্যস্থতার কোনও ভূমিকা ছিল না।
প্রসঙ্গত, পহেলগাম হামলায় (Pahalgam Attack) ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান (Operation Sindoor) চালায় পাকিস্তান ও পিওকে-র সন্ত্রাসমূলক পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে। তার তিন দিন পরে—১০ মে—দুই দেশের ডিজিএমও-র সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হয় বলে ভারতের পক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য।
ট্রাম্প যদিও দাবি করে যাচ্ছেন, লম্বা আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায়ই পূর্ণ যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। কিন্তু নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছে - তৃতীয় পক্ষকে কোনও পর্যায়েই আলোচনায় আনা হয়নি।