ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মধ্যস্থতায় তাঁর ভূমিকা ছিল নির্ণায়ক। কিন্তু নয়াদিল্লি কখনই তা মানতে চায়নি।
.jpeg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 16 October 2025 14:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের (India) সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) ৪০ বছরের বেশি পরিশ্রম করেছিল। সেটা অহংকার ও কিছু টাকার জন্য শেষে করে দিতে চলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)! এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত (EX Envoy) ও বারাক ওবামার সাবেক চিফ অফ স্টাফ রহম এম্যানুয়েল। পাকিস্তান (Pakistan) এবং চিনের (China) প্রসঙ্গ তুলে আরও চমকে দেওয়া অভিযোগও করেছেন তিনি।
পাকিস্তানের দেওয়া কিছু টাকার (Money from Pakistan) জন্য ভারতের সঙ্গে এমন ব্যবহার করছেন ট্রাম্প - এমনই দাবি এম্যানুয়েলের। তাঁর এও বক্তব্য, বর্তমান প্রেসিডেন্টের ভুল নীতির কারণেই চিনের পক্ষে বড় কৌশলগত সুবিধা এনে দিচ্ছে। এক সাক্ষাৎকারে এম্যানুয়েল বলেন, “ভারতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় কৌশলগত সহযোগী হিসেবে গড়ে তোলার (IndiaUS Relation) কাজ চলছিল চার দশক ধরে। ভারত কেবল উৎপাদন বা প্রযুক্তিতেই নয়, সামরিক ক্ষেত্রেও চিনের বিরুদ্ধে এক বড় প্রতিরোধ হতে পারত। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব নষ্ট করে দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ ভারতের (প্রধানমন্ত্রী) মোদী (Narendra Modi) তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার (Nobel Peace Prize) পাওয়ার যোগ্য বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করবেন না বলেই ট্রাম্প সম্পর্কের এই সর্বনাশ ঘটালেন।” উল্লেখ্য, ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মধ্যস্থতায় তাঁর ভূমিকা ছিল নির্ণায়ক। কিন্তু নয়াদিল্লি কখনই তা মানতে চায়নি। পাকিস্তান ট্রাম্পকে একাধিকবার শান্তিতে নোবেল দেওয়ার দাবি তুললেও ভারত বিষয়টিকে গুরুত্বই দেয়নি। তাই অনুমান, মোদী সরকারের ওপর রাগ এবং ক্ষোভ এইভাবে উগরে দিচ্ছেন ট্রাম্প।
এম্যানুয়েল অভিযোগ করেন, “ট্রাম্প অহংকারের বশে এবং পাকিস্তানের কাছ থেকে পাওয়া টাকার প্রভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করেছেন। সেই টাকা পাকিস্তান দিয়েছিল তাঁর ছেলে ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারীর ছেলেকে।” তিনি জানান, পাকিস্তানের ‘ক্রিপ্টো কাউন্সিল’-এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক বেসরকারি ক্রিপ্টোকারেন্সি সংস্থার চুক্তি হয়, যার মালিক স্টিভ উইটকফের ছেলে জ্যাকারি উইটকফ। ওই সংস্থার ৬০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের - এরিক, ডোনাল্ড জুনিয়র এবং জামাই জ্যারেড কুশনারের নামে।
চলতি বছরের এপ্রিলে সেই সংস্থা পাকিস্তানের ‘ক্রিপ্টো কাউন্সিল’-এর সঙ্গে একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে। এম্যানুয়েলের দাবি, “এই আর্থিক সংযোগই ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, মার্কিন প্রশাসন ভারতের বিরুদ্ধে শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে নিয়ে গেছে, যার মধ্যে রুশ তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও অন্তর্ভুক্ত। এই পদক্ষেপকে ভারত 'অন্যায্য' ও 'অযৌক্তিক' বলে বর্ণনা করেছে।
সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (CREA)-এর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার জ্বালানির দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা বর্তমানে ভারত, চিনের পরেই। কিন্তু ওয়াশিংটনের মতে, রুশ তেল কেনার মাধ্যমে ভারত আসলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অর্থসাহায্য করছে।
তবে নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট - ভারতের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণভাবে দেশের নাগরিকের স্বার্থ ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করেই নির্ধারিত, এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান 'স্বাধীন' ও 'ভারসাম্যপূর্ণ'। রাশিয়াও জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকে তেল কিনলে ভারতের অর্থনীতির উন্নয়ন হবে।