গোরের এই পোস্টের কিছু আগেই ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি শেয়ার করেন। ছবিটিতে কোনও লেখা না থাকলেও দেখা যায়, ‘ইন্ডিয়া টুডে’ পত্রিকার ‘নিউজমেকারস অব দ্য ইয়ার ২০২৫’ সংস্করণের কভার। ওই কভারে একসঙ্গে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প, শিরোনাম - ‘দ্য মুভার অ্যান্ড দ্য শেকার’। এই প্রতীকী পোস্টও নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 2 February 2026 22:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত–মার্কিন সম্পর্কের (US India Relation) টানাপড়েনের আবহে কূটনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত মিলল সোমবার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (Sergio Gor)।
দুই দেশের মধ্যে শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং জ্বালানি বাণিজ্য ঘিরে মতবিরোধ চলার মধ্যেই এই ফোনালাপ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্টে সার্জিও গোর লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এইমাত্র প্রধানমন্ত্রী মোদীর (PM Narendra Modi) সঙ্গে কথা বলেছেন। নজর রাখুন।” এই সংক্ষিপ্ত বার্তায় ফোনালাপের কোনও বিস্তারিত তথ্য না থাকলেও, সময় নির্বাচনেই গুরুত্ব দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
গোরের এই পোস্টের কিছু আগেই ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি শেয়ার করেন। ছবিটিতে কোনও লেখা না থাকলেও দেখা যায়, ‘ইন্ডিয়া টুডে’ পত্রিকার ‘নিউজমেকারস অব দ্য ইয়ার ২০২৫’ সংস্করণের কভার। ওই কভারে একসঙ্গে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প, শিরোনাম - ‘দ্য মুভার অ্যান্ড দ্য শেকার’। এই প্রতীকী পোস্টও নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

এখনও পর্যন্ত নয়াদিল্লি বা ওয়াশিংটন - কোনও পক্ষই ফোনালাপের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। ট্রাম্পের পোস্টেও আলোচনার বিষয়বস্তু বা সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রের মতে, চলমান বাণিজ্য আলোচনা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিল বিষয়গুলিই আলোচনায় উঠে আসা স্বাভাবিক।
বর্তমানে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত একাধিক ইস্যুতে মতবিরোধ রয়েছে। শুল্কহার, মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার এবং শক্তি বাণিজ্য - বিশেষ করে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা, এই সব বিষয় নিয়ে আগেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। অতীতে এই কারণেই ভারতীয় পণ্যের উপর কড়া শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে সার্জিও গোরের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ভারত–আমেরিকা সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে সক্রিয়। একাধিকবার তিনি ট্রাম্প ও মোদীর বন্ধুত্বকে 'বাস্তব ও দৃঢ়' বলে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দুই দেশই সম্পর্ক আরও গভীর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সম্প্রতি ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। এই আলোচনার লক্ষ্য দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলি মেটানো এবং প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো। যদিও এখনও কোনও চূড়ান্ত চুক্তির ঘোষণা হয়নি, তবে দুই দেশই আলোচনায় এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সব মিলিয়ে, শুল্ক ও কৌশলগত মতবিরোধ সত্ত্বেও ভারত–মার্কিন সম্পর্ক যে এখনও দুই দেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ - সেই বার্তাই দিতে চাইছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প–মোদী ফোনালাপ সেই কূটনৈতিক ইঙ্গিতকেই আরও স্পষ্ট করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।