গাজার পরিস্থিতি নিয়ে দু'জনের কথা হওয়ার সময় নেতানিয়াহু খুব উৎসাহিত ছিলেন না। বরং ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, 'এতে উদযাপন করার মতো কিছু নেই। এমনও কিছু ঘটেনি।'

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 6 October 2025 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজায় (Gaza) প্রায় দু'বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের (Israel Hamas War) মধ্যে শান্তি আলোচনার নতুন ইঙ্গিত মিলতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ফোন করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে (Benjamin Netanyahu)। কিন্তু সূত্রের খবর, তাঁদের কথোপকথন একেবারে মধুর হয়নি। ট্রাম্পের শান্তির প্রস্তাবে হামাস ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে জানিয়ে তিনি নেতানিয়াহুকে বলেন - এটা একটা জয়ের মুহূর্ত। কিন্তু নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই ম্লান — এতে আনন্দের কিছু নেই!
আন্তর্জাতিক একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, গাজার পরিস্থিতি নিয়ে দু'জনের কথা হওয়ার সময় নেতানিয়াহু খুব উৎসাহিত (Excited) ছিলেন না। বরং ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, 'এতে উদযাপন করার মতো কিছু নেই। এমনও কিছু ঘটেনি।' সূত্রের খবর, এতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিছুটা অসন্তুষ্ট হন। পাল্টা নেতানিয়াহুকে বলেন, 'তুমি সবসময় এত নেগেটিভ (Negetive) কেন? এটা একটা জয়, সেটা মেনে নাও।'
গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই ফোনালাপে নেতানিয়াহু দাবি করেন, হামাসের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক নয়। তিনি চান, ইজরায়েল ও ওয়াশিংটন যৌথভাবে এমন এক বিবৃতি দিক যাতে এই বার্তা না যায় যে হামাস প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের মতে, হামাস যদি পুরোপুরি প্রস্তাব খারিজ না করে, তবে সেটাই আলোচনার সুযোগ। আর সেই কারণেই নেতানিয়াহুর ‘নেতিবাচক মনোভাব’ তাঁকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।
ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প প্রকাশ্যে আহ্বান জানান যে, ইজরায়েল যেন গাজায় বিমান হামলা বন্ধ করে। তিন ঘণ্টা পরই সেই নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু।
শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি
ট্রাম্প পরে জানিয়েছেন, ‘‘আমরা এখন গাজা শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আমি বিষয়টি শেষ করতে চাই।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আমি নেতানিয়াহুকে বলেছি, এটাই ওর জয়ের সুযোগ। শেষ পর্যন্ত ও রাজি হয়েছে। আমার সঙ্গে থাকলে রাজি হতেই হবে।''
আলোচনার প্রথম দফা শুরু হবে মিশরে। এতে অংশ নিচ্ছে হামাস, ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘‘বিশ্বজুড়ে মুসলিম ও আরব দেশগুলির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। প্রথম পর্যায় এই সপ্তাহেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি। সবাইকে দ্রুত এগোতে বলেছি।’’
এদিকে হামাসের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, কায়রোতে মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক হবে। আলোচনার লক্ষ্য, একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির তারিখ নির্ধারণ করা এবং প্রথম দফার শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া যাতে গাজায় বন্দি ৪৭ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়, বিনিময়ে ইজরায়েলে আটক কয়েকশো প্যালেস্টাইনি নাগরিককে ছেড়ে দেওয়া হবে।