ভেনেজুয়েলা আপাতত আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে ঘোষণা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 4 January 2026 08:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লুকোছাপার কোনও জায়গা রাখলেন না আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, এবার ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব থাকবে ওয়াশিংটনের হাতেই। ফ্লোরিডায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প (Donald Trump) বলেন, যতদিন না ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) নিরাপদ ও সুষ্ঠু ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হচ্ছে, ততদিন আমেরিকাই ওই দেশ পরিচালনা করবে। তবে এই ‘পরিচালনা’ ঠিক কীভাবে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুধু এটুকু জানিয়েছেন, একটি নির্দিষ্ট টিম এই কাজের দায়িত্বে থাকবে।
ভেনেজুয়েলার মাটিতে কি মার্কিন সেনা মোতায়েন হতে চলেছে? ট্রাম্পের বক্তব্যে সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিতও মিলেছে। সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি দাবি করেন, “গতকাল আমেরিকা (United States) যা অর্জন করেছে, বিশ্বের আর কোনও দেশ তা পারেনি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সামরিক ক্ষমতা কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।” ট্রাম্পের কথায়, নৌ, বায়ু ও পদাতিক বাহিনীকে (Navy, Air Force, Infantry) একযোগে কাজে লাগানো হয়েছে। তাঁর দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (World War II) পর এমন সামরিক অভিযান গোটা বিশ্ব আর দেখেনি।
ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের (Venezuela Oil Reserves) দিকেও বরাবরই নজর ট্রাম্পের। এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল সংস্থাগুলি আমেরিকাতেই রয়েছে এবং তারা ভেনেজুয়েলায় যাবে। সেখানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করবে, ভেঙে পড়া পরিকাঠামোর উন্নতি ঘটাবে এবং দেশের জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, এর আগেই ভেনেজুয়েলার উপকূলে তেল ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা (Oil Tanker Ban) জারি করেছিল আমেরিকা। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ভেনেজুয়েলা সীমান্তে কোনও তেল ট্যাঙ্কার আসা-যাওয়া করতে পারবে না।
এই সামরিক অভিযান ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্রিটেন (United Kingdom) সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, এই হামলার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union) পরোক্ষ ভাবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) কাঠগড়ায় তুললেও, রাষ্ট্রপুঞ্জের (United Nations) নীতি মেনে ওই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার কথাই বলেছে ইইউ।
অন্য দিকে, আমেরিকার এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে চিন (China)। চিনের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আমেরিকার বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের (International Law) গুরুত্বকে লঙ্ঘন করেছে।”