২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পরই তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে ভেনেজুয়েলার বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠেন।

শেষ আপডেট: 3 January 2026 20:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Venezuelan President Nicolas Maduro) মার্কিন বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন এক মহিলা—মারিয়া কোরিনা মাচাদো (Maria Corina Machado)। মাচাদোকে ইতিমধ্যেই ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, এবং যিনি এখন বিশ্ব দরবারে ভেনেজুয়েলার বিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে পরিচিত মুখ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় মাদুরো ‘ধৃত’ হওয়ার খবর সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে— এতদিন আত্মগোপনে থাকা এই বিরোধী নেত্রীর ভাগ্যে কি এবার ক্ষমতার দরজা খুলবে?
কে এই মারিয়া কোরিনা মাচাদো? (Who is Maria Corina Machado)
মারিয়া কোরিনা মাচাদো ভেনেজুয়েলার কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরব এক বিরোধী নেত্রী। ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পরই তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে ভেনেজুয়েলার বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠেন। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই পুরস্কারের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও আলোচনায় ছিল।
এখন কোথায় মাচাদো?
সূত্রের খবর, বর্তমানে মাচাদো রয়েছেন নরওয়ের অসলোতে। গত মাসেই সেখানে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেন। প্রায় এক বছর ধরে ভেনেজুয়েলায় আত্মগোপনে থাকার পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি।
বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তাঁকে ভেনেজুয়েলা থেকে বের করে আনার গোটা অভিযান ছিল রীতিমতো রোমাঞ্চকর— ছদ্মবেশ, উত্তাল সমুদ্রে দু’টি নৌকায় যাত্রা এবং শেষে বিমানে করে দেশছাড়া। এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের প্রাক্তন সদস্য ব্রায়ান স্টার্ন। অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন গোল্ডেন ডায়নামাইট’।
ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে কী বলেছেন মাচাদো?
মাদুরো গ্রেফতারের পর এখনও পর্যন্ত সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি মাচাদো। তবে অতীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা সংক্রান্ত কঠোর অবস্থানের প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “ট্রাম্প এই অঞ্চলে স্বাধীনতার একজন প্রকৃত যোদ্ধা।” এমনকি ভেনেজুয়েলার কমিউনিস্ট শাসনের অবসানের জন্য তিনি মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষেও সওয়াল করেছিলেন।
তবে কি এবার ক্ষমতায় আসবেন মাচাদো?
সব প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এখনও স্পষ্ট নয়। ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক আর. বিশ্বনাথনের মতে, মাদুরো একা নন— ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার নেপথ্যে রয়েছে আরও বড় ও শক্তিশালী গোষ্ঠী। তাঁর কথায়, “মাদুরোর পতন বা মৃত্যু হলেও মাচাদোর ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত নয়। কারাকাসের প্রভাবশালী শক্তিকেন্দ্রগুলি শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করবে, কিন্তু মার্কিনপন্থী সরকার সহজে মেনে নেবে না।”
রাজনৈতিক টার্নিং পয়েন্টে ভেনেজুয়েলা
একদিকে মাদুরোর গ্রেফতার, অন্যদিকে নোবেলজয়ী বিরোধী নেত্রী— ভেনেজুয়েলা এখন ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এই মুহূর্তে মারিয়া কোরিনা মাচাদোর দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। সত্যিই কি তাঁর কপালে শিঁকে ছিঁড়বে, না কি ক্ষমতার লড়াই আরও জটিল হবে— সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।