মার্কিন সেনা বাহিনী একাধিক ‘প্রাণঘাতী’ বিমান হামলা চালিয়েছে - এমনই দাবি করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে তিনি জানান, তাঁর নির্দেশেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 26 December 2025 08:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাইজেরিয়ায় (Nigeria) আইএস জঙ্গিদের ঘাঁটির (ISIS Camp) উপর মার্কিন সেনাবাহিনী (US Army) একাধিক ‘প্রাণঘাতী’ বিমান হামলা (Airstrike) চালিয়েছে - এমনই দাবি করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে তিনি জানান, তাঁর নির্দেশেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় (North-West Nigeria) সক্রিয় আইএস জঙ্গিদের লক্ষ্য করে এই হামলা হয়। তিনি লেখেন, “আমার নির্দেশে আমেরিকান বাহিনী আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী আঘাত হেনেছে। মৃত জঙ্গিদের বলব - মেরি ক্রিসমাস।” তাঁর অভিযোগ, এই জঙ্গিরা মূলত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরীহ মানুষদের নিশানা করে হত্যা করছিল।

হোয়াইট হাউসের (White House) দাবি অনুযায়ী, নাইজেরিয়ায় সাম্প্রতিক হিংসা এমন মাত্রায় পৌঁছেছিল, যা বহু দশক এমনকী শতাব্দী ধরে দেখা যায়নি। ট্রাম্প আরও বলেন, আগেই তিনি এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি তাদের জানিয়েছিলাম, খ্রিস্টানদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হলে তার ভয়াবহ পরিণতি হবে - আর সেটাই হয়েছে।”
প্রেসিডেন্টের দাবি, অভিযানে ‘একাধিক নিখুঁত হামলা’ চালানো হয়েছে, যা মার্কিন সেনার (US Army) ক্ষমতার পরিচয় বহন করে। পেন্টাগনকে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’ (Dept of War) বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমেরিকার সেনাবাহিনীই কেবল এমন নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম।
এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তিনি লেখেন, “আমার নেতৃত্বে আমেরিকা কখনওই উগ্র ইসলামিক সন্ত্রাসবাদকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেবে না।” পোস্টের শেষে তিনি মার্কিন সেনাদের শুভেচ্ছা জানান এবং বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, “ঈশ্বর আমাদের সেনাবাহিনীকে আশীর্বাদ করুন।”
প্রসঙ্গত, নাইজেরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই আইএস-ঘনিষ্ঠ জঙ্গি গোষ্ঠী ও বোকো হারামের মতো সংগঠনগুলির হিংসা চলছে। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অংশে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির দাপট দীর্ঘদিনের।
সম্প্রতি আমেরিকা নাইজেরিয়াকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের আওতায়। গত নভেম্বরেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, খ্রিস্টান নিপীড়নের অভিযোগ খতিয়ে দেখে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি শুরু করতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও হিংসায় যুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে মার্কিন বিদেশ দফতর।
এদিকে, বড়দিনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার করেন। তিনি লেখেন, “রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমি সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” ২০২৩ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাঁর প্রশাসন সক্রিয় বলে দাবি করেন তিনি।
তবে নাইজেরিয়া সরকার বরাবরই খ্রিস্টানদের উপর পরিকল্পিত নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, জঙ্গি হামলার শিকার হচ্ছেন মুসলিম ও খ্রিস্টান - উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই এবং এই সংকটকে একমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বাস্তব পরিস্থিতি অতিসরলীকৃত হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, নাইজেরিয়ার জনসংখ্যা প্রায় সমান ভাগে বিভক্ত - উত্তরে মুসলিম ও দক্ষিণে খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চল।