বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক ভারত যদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে, তবে তা শুধু মস্কোর অর্থনীতিকেই নয়, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য রক্ষাকারী অন্যান্য দেশগুলির অবস্থানকেও প্রভাবিত করবে।

নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 16 October 2025 07:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার থেকে তেল (Russian Oil) কেনার জন্যই ভারতের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক (Tariff) চাপানো হয়েছে - এই কথাই বলেছিল মারকিং যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সিদ্ধান্তের পর অবশ্য ভারত (India) চুপ করে বসে থাকেনি। রাশিয়ান তেল কেনার কারণ ব্যাখ্যা করেছিল এবং শুল্কনীতির মোকাবিলা করার কথাও জানিয়েছিল। তারপর অবশ্য অনেকটা জল গড়িয়েছে। এবার এই ইস্যুতে বিরাট দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তা নিয়েই এখন হইচই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল (Russian Crude Oil) কেনা বন্ধ করবে! বুধবার হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “ভারত যে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে, সে বিষয়ে আমি খুশি ছিলাম না। আজ মোদী আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন, তারা আর রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না। এটা একটি বড় পদক্ষেপ'' ট্রাম্প এও বলেন, “এখন আমাদের লক্ষ্য চিনকেও (China) একই পথে নিয়ে আসা।''
ভারত যদি সত্যিই রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে তা হবে বৈশ্বিক জ্বালানি কূটনীতিতে এক বড় মোড়। রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে তেলবাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জোরদার করছে, তার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক ভারত যদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে, তবে তা শুধু মস্কোর অর্থনীতিকেই নয়, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য রক্ষাকারী অন্যান্য দেশগুলির অবস্থানকেও প্রভাবিত করবে।
তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারত অবিলম্বে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে পারবে না। তাঁর কথায়, “এটা একটা প্রক্রিয়া, সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু খুব শিগগিরই সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।”
যদিও গোটা বিষয় নিয়ে ভারতের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। এর আগে অবশ্য তারা এই তেল কেনার ইস্যুতে স্পষ্ট জানিয়েছিল, দেশের জ্বালানি নীতি কেবল জাতীয় স্বার্থ আর বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ঠিক হয়। পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার পর সরবরাহ কমে গেলে, ভারতের জন্য সস্তা রুশ তেল হয়ে ওঠে সহজলভ্য বিকল্প।
এদিকে আমেরিকার অভিযোগ ছিল, মস্কো থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা মানে পরোক্ষে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনকে মদত দেওয়া (Russia-Ukraine War)। এই আবহে এখন সত্যিই যদি ভারত রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করে দেয় তাহলে তা হবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য এক বিরাট আলোচনার বিষয়।