ঘরের ভিতরেই ট্রাম্পের কথাবার্তা ও চালচলনের ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

মার্কিন গণতন্ত্রের সংবিধান অনুসারে সেদেশের কংগ্রেসের বা পার্লামেন্টের অসীম ক্ষমতা রয়েছে।
শেষ আপডেট: 19 June 2025 16:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানঘাতী আক্রমণে আমেরিকার সরাসরি যোগদানের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা, একগুঁয়ে সিদ্ধান্তের পায়ে বেড়ি পড়তে চলেছে। ঘরের ভিতরেই ট্রাম্পের কথাবার্তা ও চালচলনের ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। শুধু বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট শিবির থেকেই নয়, ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান এবং প্রেসিডেন্টের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ জোটের অন্দরেও খামোখা ইরান আক্রমণের জোরাল সম্ভাবনার নিন্দেমন্দ করা শুরু হয়েছে। সুতরাং, ট্রাম্প নিজে ইরানকে শাস্তি দেওয়ার ঘোষণা এবং পূর্ণ বিজয়ের গলাবাজি করতে থাকলেও, অতীতের মতো এবার আরব দুনিয়া ও পশ্চিম এশিয়ায় সরাসরি যুদ্ধে নামতে পারবেন না বলে অনেকে মনে করছেন।
মার্কিন গণতন্ত্রের সংবিধান অনুসারে সেদেশের কংগ্রেসের বা পার্লামেন্টের অসীম ক্ষমতা রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ হচ্ছে সেনেট এবং নিম্নকক্ষ হচ্ছে হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ। আমেরিকা কোনও যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে কংগ্রেসের অনুমতিক্রমে। অবশ্য জাতীয় নিরাপত্তা যখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে এসে দাঁড়ায় কিংবা বিপদের মুখে পড়ে তখন ঐক্যবদ্ধভাবে সকলেই প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে যে, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে আচমকা আমেরিকার সরাসরি যোগ দেওয়ার কারণ কী? শুধু তাই নয়, প্রেসিডেন্ট যে যুদ্ধে যাওয়ার ভাবনাচিন্তা করেছেন, তাতে কংগ্রেসের অনুমতি নেওয়া হয়নি।
সেনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযোগ তুলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অযথা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চলেছেন। তাঁর কোনও আইনি এক্তিয়ার নেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার। ডেমোক্র্যাট দলের পাঁচ শীর্ষ সেনেট সদস্য একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই, কৌশল ছাড়াই এবং কংগ্রেসকে অন্ধকারে রেখে অর্থাৎ আমেরিকার কী উদ্দেশ্য সাধন হবে, তার ব্যাখ্যা ছাড়াই ইরানে হামলা চালাতে পারে না।
আইন অনুসারে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসে আলোচনা করতে বাধ্য। দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার আগে কংগ্রেসের সম্মতি বাধ্যতামূলক। সেনেটররা লিখেছেন, কয়েক দশক পর তৃতীয় যুদ্ধের দিকে পরিস্থিতি গড়ালে আমেরিকা ঘুমিয়ে হাঁটতে পারে না। কংগ্রেসের অনুমতি উপেক্ষা করাকে ট্রাম্পের চরম ভুল বলে দাবি করেন তাঁরা। সেনেটররা আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট মার্কিন নাগরিক ও কংগ্রেসের কাছে দায়বদ্ধ। কেন আমেরিকা যুদ্ধে যেতে চায় এবং তাতে দেশের কোন স্বার্থ সুরক্ষিত হবে, তা খোলসা করে জানানোর দাবি তুলেছেন বিরোধী দলের নেতারা।
শুধু বিরোধী পক্ষই নয়, ট্রাম্পের ডানপন্থী ঘেঁষা ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (MAGA) গোষ্ঠীর ভিতর থেকেও বিরোধিতার কণ্ঠ উঠে এসেছে। ট্রাম্পের ইরান আক্রমণের সম্ভাবনা নিয়ে জোট সরকারের অভ্যন্তরেও মতান্তর দেখা দিয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ অনেকেই আবেদন জানিয়েছেন যে, আমেরিকা যেন মধ্য পূর্ব অঞ্চলের গন্ডগোলে নিজেকে না জড়ায়। ট্রাম্পের খুব কাছের লোক বলে খ্যাত রিপাবলিকান জোটের শীর্ষ নেতা স্টিভ ব্যানন আর্জি জানিয়ে বলেছেন, কূটনৈতিক চুক্তির রাস্তা ছেড়ে দিয়ে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রের উপর হামলা চালানো উচিত হবে না। আমেরিকা ও ট্রাম্প যেন এ ব্যাপারে সতর্ক থাকেন।
তিনি আরও বলেছেন, আমরা ফের এটা করতে পারি না। আমরা চাই না, ফের আরেকটা ইরাক যুদ্ধ বাধুক। রিপাবলিকান পার্টির যুদ্ধবিরোধী অংশের দাবি, ট্রাম্প অবিলম্বে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক স্থায়িত্বের দিকে পদক্ষেপ করুন। কারণ ইরান ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়ে রেখেছে যে, আমেরিকা এই যুদ্ধে সরাসরি যোগ দিলে তাদের অপূরণীয় ক্ষতির মাশুল গুনতে হবে। যদিও তার কোনও ব্যাখ্যা দেননি ইরানের শীর্ষ ধর্মগুরু আয়াতোল্লা খামেনেই। তবে ইরানের অন্য ধর্মনেতা হুমকি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা যদি খামেনেইকে খুন করে তাহলে আমরাও ওয়াশিংটন ও নিউ ইয়র্ক গুঁড়িয়ে দেব।