সেনাবাহিনী অবশ্য ইতিমধ্যে করা বার্তা দিয়েছে প্রতিবাদীদের উদ্দেশে। সেনাপ্রধান স্পষ্ট করে বলেছেন, বিক্ষোভের নামে কোনও রকম ভাঙচুর, লুটপাট বরদাস্ত করা হবে না। সেরম হলে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 September 2025 09:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার থেকে অশান্ত নেপাল (Nepal)। 'জেন-জি' (Gen-Z) বিক্ষোভের কারণে দেশজুড়ে কার্ফু (Curfew) এবং জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এই বিক্ষোভের ফলে দেশটির সরকার ভেঙে পড়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে সেনাবাহিনী রাতারাতি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং লোকজনকে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হিংসার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জন নিহত (Death) হয়েছেন এবং হাজারের বেশি জন আহত।
পাহাড়ি দেশটি এই মুহূর্তে কার্যত সেনার (Nepal Army) অধীনে। তবে তার আগেই বিক্ষুব্ধ জনতা বিভিন্ন সরকারি ভবন ও রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই বিক্ষোভ চলাকালীন নেপালের ৭৭টি জেলার জেল থেকে প্রায় ১৩ হাজার বন্দিকেও মুক্ত করা হয়েছে।
গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসে। পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের উপর কড়াকড়ি শুরু করে এবং একপর্যায়ে গুলি চালায়। এই ঘটনায় বিক্ষোভের মাত্রা আরও বেড়ে যায় এবং হামলার ঘটনা ঘটে।
সেনাবাহিনী অবশ্য ইতিমধ্যে করা বার্তা দিয়েছে প্রতিবাদীদের উদ্দেশে। সেনাপ্রধান স্পষ্ট করে বলেছেন, বিক্ষোভের নামে কোনও রকম ভাঙচুর, লুটপাট বরদাস্ত করা হবে না। সেরম হলে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আপাতত দেশে নাইট কার্ফুও জারি করেছে সেনাবাহিনী। তবে দিনে এবং রাতে ২ ঘণ্টা করে শিথিলতা আনা হয়েছে।
নেপালের বর্তমান অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। সাম্প্রতিক বিদ্রোহে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদচ্যুত হওয়ার পর ভার্চুয়াল বৈঠকে ভোটাভুটিতে কার্কি পান ৩১ শতাংশ সমর্থন। খুব সামান্য ব্যবধানে তিনি এগিয়ে যান কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন শাহর থেকে, যিনি পেয়েছেন ২৭ শতাংশ ভোট।
কার্কির আইনজীবী হিসেবে পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৭৯ সালে, বিরাটনগরে। ধাপে ধাপে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হন ২০০৯ সালে। ২০১৬ সালে নেপালের প্রথম মহিলা হিসেবে প্রধান বিচারপতির আসনে বসেন। সেই সময় নেপালের রাষ্ট্রপতি, সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতি, তিনটি শীর্ষ পদেই ছিলেন মহিলা।
আন্দোলনের মূল সুরই ছিল দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং সরকারি সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। তাঁদের অভিযোগ ছিল, দুর্নীতি ঢাকতেই না কি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কার্কির দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব এবং আপসহীন ভাবমূর্তিই হয়তো তাঁকে সকলের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।