গত দুদিন ধরে জেন-জি তথা তরুণদের নেতৃত্বে দেশজুড়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে নেপাল। সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকেই আন্দোলনের সূচনা। কিন্তু ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনঅসন্তোষে।

কেপি শর্মা ওলি
শেষ আপডেট: 10 September 2025 20:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালে ব্যাপক বিক্ষোভ ও রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের (Nepal Protest) জেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন কেপি শর্মা ওলি। কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও তিনি থেমে থাকলেন না। বরং ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে ওলি দাবি করেছেন— দিল্লির বিরুদ্ধাচরণ করার ফলেই তাঁকে গদি ছাড়তে হয়েছে।
বর্তমানে নেপাল সেনার শিবপুরি ব্যারাকে রয়েছেন ওলি। সেখান থেকেই দলের সাধারণ সম্পাদককে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, “আমি যদি লিপুলেখ ইস্যুতে প্রশ্ন না তুলতাম, তাহলে এখনও ক্ষমতায় থাকতে পারতাম।” শুধু তাই নয়, অযোধ্যা ও ভগবান রামকে ঘিরে তাঁর অবস্থানও রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ওলির বক্তব্য, “আমি ক্ষমতা হারিয়েছি কারণ আমি মানতে চাইনি রামের জন্মভূমি অযোধ্যায় ছিল।”
গত দুদিন ধরে জেন-জি তথা তরুণদের নেতৃত্বে দেশজুড়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে নেপাল। সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকেই আন্দোলনের সূচনা। কিন্তু ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনঅসন্তোষে। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ একাধিক শহরে কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান অন্তত ২০ জন, আহত হন শতাধিক।
অবশেষে টানা দু’দিনের উত্তাল আন্দোলনের চাপে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওডেলকে পদত্যাগপত্র জমা দেন ওলি। দীর্ঘদিনের বিতর্কিত নেতৃত্বের পর তাঁর পতন নেপালের রাজনীতিতে এক বড় মোড়। কিন্তু সরে যাওয়ার পরও ভারতের প্রতি তীব্র ক্ষোভকে অস্ত্র করে নিজেকে শহিদ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
অযোধ্যা নিয়ে ওলির বিতর্কিত মন্তব্য
২০২০ সালের জুলাই মাসে নেপালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে ভারত–নেপাল সম্পর্ককে নাড়া দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ভগবান রাম ভারতের নন, বরং নেপালের বাসিন্দা। ওলির কথায়, “ভগবান রামের রাজ্য অযোধ্যা ভারতের নয়, বরং নেপালের বীরগঞ্জের পশ্চিমে অবস্থিত। ভারত একটি বিতর্কিত অযোধ্যা তৈরি করেছে।”
তিনি আরও বলেছিলেন, প্রকৃত অযোধ্যা নেপালের থোরি গ্রামের কাছে অবস্থিত, ভারতের উত্তরপ্রদেশে নয়। ভারতের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য “দখল” করার অভিযোগ এনে ওলি বলেছিলেন, “আমরা ভুল ধারণায় ভুগছি যে সীতা ভারতের রামের সঙ্গে বিবাহ করেছিলেন। কিন্তু রাম আসলে ভারতীয় নন, নেপালি।”
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে উত্তরপ্রদেশ থেকে রাম এতদূরে এসে সীতাকে বিবাহ করতে পারেন? তাঁর যুক্তি ছিল, প্রাচীন যুগে দীর্ঘ দূরত্বের বিবাহ প্রচলিত ছিল না। “তখন তো ফোন ছিল না, কীভাবে যোগাযোগ হত? সেই সময়ে কাছাকাছি রাজ্যগুলির মধ্যেই বিবাহ হত। এত দূর যাত্রা করে বিয়ে করার রীতি ছিল না,” মন্তব্য করেন ওলি।
এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ঝড় ওঠে। ভারতের রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বড় অংশ ওলির বক্তব্যকে অমূলক ও কল্পনাপ্রসূত বলে কড়া ভাষায় খণ্ডন করেন।