জাদুঘর খোলার কিছুক্ষণ পরেই কর্মীরা লক্ষ্য করেন, একটি প্রদর্শনী ঘরের জানলার কাচ ভাঙা। ভেতরে ঢুকেই দেখা যায়, নেপোলিয়ন ও জোসেফিনের ব্যবহার করা নয়টি প্রাচীন গয়না উধাও—এর মধ্যে রয়েছে নেকলেস, ব্রোচ, আংটি ও অলঙ্কার সেট।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 October 2025 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্যারিসের বিখ্যাত ল্যুভ জাদুঘরে রবিবার সকালে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা—চুরি গেল ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ও সম্রাজ্ঞী জোসেফিনের অমূল্য গয়না (Napoleon jewels stolen)! সিনেমার মতো পরিকল্পনা করে তিন দুষ্কৃতী লুঠ চালায় জাদুঘরের ভিতরে। দু’জন জানলা ভেঙে ঢোকে, আরেকজন বাইরে থেকে পাহারা দেয়। এই সাহসী চুরির (Louvre museum robbery) ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা ফ্রান্সে।
জাদুঘর খোলার কিছুক্ষণ পরেই কর্মীরা লক্ষ্য করেন, একটি প্রদর্শনী ঘরের জানলার কাচ ভাঙা। ভেতরে ঢুকেই দেখা যায়, নেপোলিয়ন ও জোসেফিনের ব্যবহার করা নয়টি প্রাচীন গয়না উধাও—এর মধ্যে রয়েছে নেকলেস, ব্রোচ, আংটি ও অলঙ্কার সেট। ঐতিহাসিক এই গয়নাগুলি ১৮০৪ সালে নেপোলিয়নের অভিষেকের পর বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল (Napoleon and Josephine treasures)। ফরাসি ইতিহাসের অংশ হিসেবে এগুলির সাংস্কৃতিক মূল্য অপরিমেয়।
ফ্রান্সের সংস্কৃতি মন্ত্রী রাশিদা দাতি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লেখেন, “আজ সকালে ল্যুভে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। কেউ আহত হননি, তবে জাদুঘর আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।” তাঁর এই ঘোষণার পরই আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন উপস্থিত হাজার হাজার পর্যটক। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ দ্রুতই জাদুঘর খালি করে দেয়।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, চোরেরা সম্ভবত জাদুঘরের নদীমুখী অংশের সংস্কার কাজের সুযোগ নিয়েছিল। সেখানে থাকা একটি সার্ভিস লিফট ব্যবহার করে তারা নির্দিষ্ট ঘরে পৌঁছে যায়। জানলা ভেঙে দু’জন ভিতরে ঢোকে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই গয়নাগুলি তুলে নিয়ে পালায়। পুলিশের ধারণা, এটি কোনও সাধারণ চুরি নয়—বরং আগেভাগে পরিকল্পিত একটি পেশাদার চক্রের কাজ।
জাদুঘরের এক কর্মীর কথায়, “সবকিছু ঘটেছে কয়েক মিনিটের মধ্যে। তারা ঠিক জানত, কোন ঘরে কী আছে।” ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লে ফিগারো’ জানিয়েছে, সকাল সাড়ে দশটার দিকে প্রথম দর্শনার্থীরা প্রবেশ করার সময়েই ঘটনা ধরা পড়ে। পরে পুলিশ এসে পর্যটকদের বাইরে বের করে আনে এবং গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে।
উল্লেখযোগ্য, ল্যুভ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় জাদুঘর, যেখানে রয়েছে মোনালিসার বিখ্যাত প্রতিকৃতিও। এর আগে ১৯১১ সালে এখান থেকে সেই ছবিটিও চুরি গিয়েছিল, যা দু’বছর পরে উদ্ধার হয়। তাই প্রশ্ন উঠছে—কড়া নিরাপত্তার মাঝে কীভাবে সম্ভব হল এই চুরির ঘটনা? পুলিশ সূত্রে খবর, নজরদারির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের সন্ধান চলছে।