গত শুক্রবার ছিল এয়ার শো-র শেষ দিন। ভারতের প্রদর্শনীর পরই মঞ্চে ওঠার কথা ছিল মার্কিন বায়ুসেনার দলের (Tejas fighter crash)। কিন্তু তেজসের দুর্ঘটনা সবকিছু বদলে দেয়।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 24 November 2025 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুবাইয়ের আকাশে প্রদর্শনী চলাকালীন ভেঙে পড়ে ভারতীয় যুদ্ধবিমান তেজস (Indian Tejas crash)। প্রাণ হারান উইং কমান্ডার নমংশ স্যালে। কিন্তু এমন মর্মান্তিক ঘটনার পরও আয়োজকরা সেদিনের অনুষ্ঠান বাতিল করেননি, নিয়ম মতোই চলেছে প্রদর্শনী (Dubai Airshow controversy)। এই বিষয়টিই ক্ষোভের কারণ হয়ে উঠেছে মার্কিন বায়ুসেনার কাছে। মৃত পাইলটের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠান বয়কট করে তারা।
গত শুক্রবার ছিল এয়ার শো-র শেষ দিন। ভারতের প্রদর্শনীর পরই মঞ্চে ওঠার কথা ছিল মার্কিন বায়ুসেনার দলের। কিন্তু তেজসের দুর্ঘটনা সবকিছু বদলে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে মনকাড়া কসরত দেখাতে গিয়েই বিমানটি প্রথমে হঠাৎ কাত হয়ে যায়। পাইলট একবার চেষ্টা করেও বিমানের ভারসাম্য ফেরাতে পারেননি। দ্বিতীয়বারে বিমানটি (Tejas fighter crash) পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং ধীরে ধীরে নীচের দিকে নামতে থাকে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে আছড়ে পড়ে তেজস এবং বিস্ফোরণে ভস্মীভূত হয়।
#
দুর্ঘটনার পর মার্কিন বায়ুসেনার (US Air Force protest) পাইলট মেজর টেলর হিয়েস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি দিয়ে জানান, তিনি আয়োজকদের সিদ্ধান্তে বিস্মিত। তাঁর কথায়, 'ঘটনার এক-দেড় ঘণ্টা পরে আমি প্রদর্শনীস্থলে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম জায়গাটা নিশ্চয়ই ফাঁকা থাকবে, মানুষ অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যাবে। কিন্তু দেখলাম সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছে!"
তিনি আরও জানান, “ভারতীয় পাইলটের মৃত্যু হওয়ার পরও আয়োজকরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠান চালাতে চেয়েছিলেন। আমরা তা মেনে নিতে পারিনি (India aviation tragedy)। পাইলট ও তাঁর পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা নিজেদের শেষ পারফরম্যান্স বাতিল করি।”
মেজর হিয়েস্টারের দাবি, সঞ্চালক ও দর্শকদের আচরণেও দুর্ঘটনার শোকের কোনও ছাপ ছিল না। বরং অনুষ্ঠানটি প্রায় উৎসবের মতোই শেষ হয়। তাঁর মন্তব্য, 'সবাই বলে শো মাস্ট গো অন। কিন্তু মনে রাখা উচিত, জীবনের মূল্য অনেক বেশি।'
উল্লেখ্য, এয়ার শো-তে (Dubai Airshow) তেজস একটি লো-অল্টিটিউড অ্যারোবেটিক স্টান্ট দেখাচ্ছিল। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিমানটি নীচের দিকে ঘুরে আবার ওপরে ওঠার চেষ্টা করছে। ঠিক সেই সময় একটি নেগেটিভ-জি টার্ন নিচ্ছিল যুদ্ধবিমানটি (Tejas Jet crash), যা সাধারণত উচ্চতা বেশি থাকলে নিরাপদে করা যায়। কিন্তু তখন বিমানটি খুব নীচ দিয়ে উড়ছিল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটি আরও নীচে নেমে আসে এবং মাটিতে আছড়ে পড়ে, মুহূর্তেই বিশাল অগ্নিগোলার সৃষ্টি হয়, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে কালো ধোঁয়ার স্তম্ভ।
তেজসের (Tejas) এটি গত ২৪ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্ঘটনা (Indian Tejas crash)। ২০২৪ সালের মার্চে রাজস্থানের জয়সালমেরে ভেঙে পড়েছিল একটি তেজস। সেই প্রথম দুর্ঘটনা ছিল ২০০১ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ান থেকে ২৩ বছরের ইতিহাসে। তখন পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। তবে দুবাইয়ের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে পাইলটের।