শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টো ১০ মিনিটের কিছু পরে আল-মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপর ভেসে ওঠে কালো ধোঁয়ার বিশাল স্তম্ভ। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দর্শক এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 November 2025 17:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুবাই এয়ারশোতে (Air Show) প্রদর্শনীর মাঝেই হঠাৎ ভেঙে পড়ল ভারতের (Indian Fighter Jet) তেজস যুদ্ধবিমান (Tejas Fighter Air Craft)। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টো ১০ মিনিটের কিছু পরে আল-মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপর ভেসে ওঠে কালো ধোঁয়ার বিশাল স্তম্ভ। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দর্শক এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে।
হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) প্রস্তুত করা এই এক-সিটের লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট (LCA) ঠিক কী কারণে ভেঙে পড়ল, তা এখনও পরিষ্কার নয়। পাইলট ইজেক্ট করতে পেরেছিলেন কি না, সে সম্পর্কেও প্রাথমিকভাবে কিছু জানায়নি ভারতীয় বায়ুসেনা। তবে পরবর্তী সময়ে জানা যায়, মৃত্যুই হয়েছে তাঁর।
দুবাই এয়ারশো বিশ্বের বড় বিমান প্রদর্শনীগুলির অন্যতম। চলতি বছরও ইভেন্ট থেকে ইতিমধ্যেই বহু হাজার কোটি ডলারের বিমান কেনার ঘোষণা করেছে এমিরেটস এবং ফ্লাইদুবাই। সেই মঞ্চেই ভারতীয় যুদ্ধবিমানের এই দুর্ঘটনা বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তেজসের এটি গত দু’বছরের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্ঘটনা। ২০২৪ সালের মার্চে রাজস্থানের জয়সালমেরে ভেঙে পড়েছিল একটি তেজস। সেই প্রথম দুর্ঘটনা ছিল ২০০১ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ান থেকে ২৩ বছরের ইতিহাসে। তখন পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন।
৪.৫-জেনারেশনের বহু-কৌশলী এই যুদ্ধবিমানটি তার হালকা ও ছোট আকৃতির জন্য আলাদা গুরুত্ব পায়। আকাশ প্রতিরক্ষা, আঘাত হানা, নিকট-সংঘর্ষ— সব ধরনের অভিযানের উপযোগী করে তৈরি হয়েছে তেজস।
বিমানটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মার্টিন-বেকার ‘জিরো-জিরো’ ইজেকশন সিট। এমন অবস্থাতেও পাইলটকে নিরাপদে বের করে আনতে পারে, যখন বিমান শূন্য উচ্চতা এবং শূন্য গতিতে থাকে— যেমন টেক-অফ বা ল্যান্ডিং-এর সময়। বিস্ফোরক চার্জের সাহায্যে ককপিটের ক্যানোপি উড়িয়ে পাইলটকে টেনে তুলেই প্যারাশুট খুলে তার অবতরণ স্থির করে এই সিস্টেম।
দুবাইয়ের দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ জানতে এখন সকলের নজর ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দিকে।
বস্তুত, এই যুদ্ধবিমান আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমি দু’টি ক্ষেত্রেই হামলা চালাতে দক্ষ। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২২০০ কিলোমিটার (১.৮ ম্যাক) গতিতে উড়তে সক্ষম। ১৮৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এই বিমান। এই বিমান ৭ হার্ডপয়েন্ট, ২৩ মিলিমিটার জিএসএইচ-২৩, অস্ত্র বিভিআর ক্ষেপণাস্ত্র, ব্রহ্মস-এনজি এবং গাইডেড বোমা বহনে সক্ষম। এ ছাড়াও রয়েছে ইজ়রায়েলি এইএসএ রেডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সুইট।