১৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে আদালতের ঐতিহাসিক রায় — স্ত্রীকে ₹৬৬৫ কোটি খোরপোষ দিতে হবে ‘চিনের ওয়ারেন বুফে’-কে!

‘চিনের ওয়ারেন বুফে’
শেষ আপডেট: 12 November 2025 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের বাঁধন আলগা হয়ে গেলেই, দু'টো মানুষের পথ ভিন্ন দিকে বেঁকে যায়। সম্পর্কের সমাপ্তি হয় আদালতে। তারপরে চলে খোরপোষ বা ভরণপোষণের মামলা। সেই মামলা কখনও কখনও ১৫ বছরও চলতে পারে। শুনে অবাক লাগছে তো? এমনটাই হয়েছে চিনে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আইনি লড়াই চলেছে। অবশেষে চিনের প্রখ্যাত বিনিয়োগকারী ঝাও বিংজিয়ানকে বিপুল পরিমাণ টাকা দিতে হল তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী লু জুয়ানকে। কারণ এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বেজিংয়ের নং ৩ ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্টের রায় অনুযায়ী, ঝাওকে প্রায় ৫৩৬ মিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৬৬৪.৭ কোটি) দিতে হবে।
এই মামলা চিনের বিনিয়োগ মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ঝাও বিংজিয়ান, যিনি ‘চিনের ওয়ারেন বুফে’ নামে পরিচিত, তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী লু জুয়ানের সঙ্গে যৌথ সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বহু বছর ধরে আইনি লড়াই করছিলেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, এই দম্পতিকে তাদের যৌথভাবে গড়া কোম্পানি ‘বেজিং ঝংঝেং ওয়ানরং ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ’-এর শেয়ার সমানভাবে ভাগ করতে হবে। ঝাওকে এখন কোম্পানির বর্তমান শেয়ারমূল্য অনুযায়ী লু জুয়ানকে তাঁর প্রাপ্য অর্থ দিতে হবে।
ঝাও ও লু ১৯৮০-এর দশকে সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিনান্স পড়ার সময় একে অপরের সঙ্গে প্রেমে পড়েন। ১৯৮৮ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। লু ছিলেন বিনিয়োগে অভ্যস্ত পরিবার থেকে। দম্পতি ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে শেয়ার কেনাবেচা শুরু করেন এবং তাতে একটা সময় বড় লাভ করেন। পরে তাঁরা একসঙ্গে ‘ঝংঝেং ওয়ানরং’ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন। ১৯৯৭ সালে ঝাও একটি জনপ্রিয় বই প্রকাশ করেন, যা তাঁকে মিডিয়াতে "চিনের বুফে" হিসেবে পরিচিতি দেয়।
২০১০ সালে লু জুয়ান গার্হস্থ্য সহিংসতার অভিযোগ তুলে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন এবং সম্পত্তির ন্যায্য ভাগ দাবি করেন। ঝাও বারবার মামলার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করেন এবং একসময় লুর বিরুদ্ধে কোম্পানির সম্পত্তি চুরির অভিযোগও তোলেন। তবে প্রমাণের অভাবে লু ৩৭ দিন জেলে থাকার পর মুক্তি পান।
দীর্ঘ বিলম্বের পর মামলাটি ২০২৩ সালে আবার শুরু হয় এবং ২০২৫ সালে শেষ হয়। এই রায়কে চিনের ইতিহাসের অন্যতম সবচেয়ে বড় অঙ্কের বিবাহবিচ্ছেদ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।