গত ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval) ও চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে ২৩তম এসআর স্তরের বৈঠক হয়, যা ২০২০-র লাদাখ সংঘর্ষের পর প্রথম এই স্তরের সংলাপ ছিল।

দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধকে ‘জটিল’ বলে স্বীকার করল চিন
শেষ আপডেট: 1 July 2025 07:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধকে ‘জটিল’ বলে স্বীকার করল চিন (China)। সোমবার বেজিং জানাল, এই সমস্যার সমাধান সময়সাপেক্ষ হলেও, ভারত-চিন সীমান্ত (India-China Border) নির্ধারণ নিয়ে তারা আলোচনায় প্রস্তুত। পাশাপাশি, সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখতেও তারা আগ্রহী।
চিনের এই মন্তব্য এসেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ও চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দং জুনের মধ্যে ২৬ জুন কুইংদাওয়ে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-র প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে হওয়া আলোচনার পর। সেই বৈঠকে রাজনাথ সিং সীমান্তে বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার উপর জোর দেন এবং ‘গ্রাউন্ডে অ্যাকশন’-এর মাধ্যমে আস্থা ফেরানোর বার্তা দেন।
বৈঠকের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, “সীমান্ত সংক্রান্ত প্রশ্নটি অত্যন্ত জটিল। এটা এক দিনে মিটবে না। তবে ইতিমধ্যেই দুই দেশের মধ্যে একাধিক স্তরে যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক।”
তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের (SR-level) আলোচনার একটি ফোরাম রয়েছে এবং সেখানে ‘রাজনৈতিক মানদণ্ড ও দিশা নির্দেশক নীতি’ নিয়ে একমত হওয়া গেছে। তাঁর কথায়, “চিন আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত নির্ধারণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে সংলাপে আগ্রহী। শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল সীমান্ত রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করতে আমরা প্রস্তুত।”
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval) ও চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে ২৩তম এসআর স্তরের বৈঠক হয়, যা ২০২০-র লাদাখ সংঘর্ষের পর প্রথম এই স্তরের সংলাপ ছিল। সেই বৈঠকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে হওয়া বিচ্ছিন্নকরণ চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দেশই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল এবং গবাদি পশু চারণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে কুইংদাওয়ের বৈঠকে রাজনাথ সিংহ আরও এক ধাপ এগিয়ে পহেলগামের জঙ্গি হামলা এবং পাকিস্তানে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রসঙ্গও তোলেন।
চিনের তরফে অবশ্য সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মাও নিং শুধু বলেন, “আমরা আশা করি ভারতও চিনের সঙ্গে একই পথে চলবে এবং যোগাযোগ অব্যাহত রেখে সীমান্তে শান্তি রক্ষায় কাজ করবে।”